odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 26th May 2026, ২৬th May ২০২৬
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সাত সদস্যের প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় ছিল বলে দাবি সাবেক উপদেষ্টার

কিচেন কেবিনেট’-এর সিদ্ধান্তে চলত অন্তর্বর্তী সরকার, ৩ বার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম: তৌহিদ হোসেন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ May ২০২৬ ২৩:৫৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ May ২০২৬ ২৩:৫৪

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ২১:৪৮

অধিকার পত্র ডেস্ক:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনায় সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত এই চক্রের মাধ্যমেই নেওয়া হতো এবং প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো।

এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন জানান, এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ ও মন্ত্রণালয়ের কাজে প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তা করেননি।

তিনি বলেন, কিচেন কেবিনেটের সদস্যদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো। তৌহিদ হোসেনের ভাষায়, “আমি যমুনাতে তাদের একটি বৈঠকে একবার গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত কেউ কেউ নেয়—এমন কথাবার্তা আমার কানেও আসত।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব বড় ঘটনার সঙ্গেই ডিপ স্টেট জড়িত থাকে। তারা সরাসরি স্রোতের বিপরীতে না গিয়ে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে পরিচালনার চেষ্টা করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকেই তাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কার্যালয় যুক্ত ছিল।

তিনি আরও বলেন, “কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে চুক্তিটি সই করার বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিতে চিঠি পাঠানোর প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটি কার্যকর হবে না—তা আগে থেকেই জানা ছিল। তবে কূটনৈতিক প্রথা অনুসরণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, “আমি মনে করি আওয়ামী লীগ পুরোপুরি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে না। দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি দীর্ঘ নয়। তাই আমার ধারণা, তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।”

নতুন সরকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্ব নিয়ে এখনই সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই তারেক রহমান-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হব



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: