odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 3rd June 2026, ৩rd June ২০২৬
লালন চর্চাকেন্দ্রের জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত হয়েছেন সাংবাদিকের ভাইও

মুন্সিগঞ্জে ফটোসাংবাদিক কবির হোসেনকে কুপিয়ে জখম, বিএনপি নেতা আটক

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ June ২০২৬ ০১:১৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ June ২০২৬ ০১:১৪

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬ | অধিকার পত্র ডটকম

জেলা প্রতিনিধি | মুন্সিগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় প্রথম আলোর ফিচার বিভাগের প্রধান ফটোসাংবাদিক কবির হোসেনকে কুপিয়ে এবং তাঁর ছোট ভাইকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার ঘটনায় লতব্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আহত কবির হোসেন (৪৫) দোসরপাড়া এলাকার প্রয়াত মালেক মাদবরের ছেলে। হামলার সময় তাঁকে রক্ষা করতে গেলে আহত হন তাঁর ছোট ভাই তকবির হোসেন (৪৪)। গুরুতর আহত অবস্থায় কবির হোসেনকে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোসরপাড়ায় কবির হোসেনদের পরিচালিত একটি লালন চর্চাকেন্দ্র রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ওই চর্চাকেন্দ্র ও সংলগ্ন জমি দখল করে ইটভাটা নির্মাণের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে কবির হোসেন চর্চাকেন্দ্রের সীমানা বেড়ার কাজ করছিলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে গিয়ে হামলা চালান। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কবির হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁর ভাই তকবির হোসেনও হামলার শিকার হন।

সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহানারা আক্তার জানান, আহতদের মধ্যে কবির হোসেনের মাথা ও দাঁতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কবির হোসেন অভিযোগ করেন, লালন চর্চাকেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, আখড়া রক্ষার বিনিময়ে তাঁর কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় হামলার শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাউলশিল্পী ও আহত তকবির শাহ বলেন, সময়মতো এগিয়ে না গেলে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হতে পারত। তিনি অভিযোগ করেন, লালনের চর্চাকেন্দ্র রক্ষার কারণেই তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের আক্রোশের শিকার হচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান জানান, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এদিকে সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী বলেন, কোনো অপরাধী দলের পরিচয়ে পার পাবে না। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: