odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 24th July 2026, ২৪th July ২০২৬
উপশিরোনাম: হুথি হামলা, যুদ্ধের ঝুঁকি ও বীমা সংকটে অনিশ্চয়তা; তবুও তেল রপ্তানি পুনরায় চালুর উদ্যোগ সরকারের

তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে চায় ইয়েমেন, নিরাপত্তা সংকট কাটলেই মিলতে পারে অর্থনীতির নতুন প্রাণ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৪ July ২০২৬ ০৩:০৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৪ July ২০২৬ ০৩:০৯

অধিকারপত্র ডটকম   আন্তর্জাতিকডেস্ক প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬,

দীর্ঘ প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর আবারও তেল রপ্তানি শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে ইয়েমেন সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, সরকার তেল রপ্তানি পুনরায় চালু করতে কাজ করছে। এই পদক্ষেপ সফল হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস পুনরুদ্ধার হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইয়েমেন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেল বিক্রির অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হবে। এসব অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ, জনসেবা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যয় করার কথা জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেই তেল রপ্তানি শুরু করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন ও রপ্তানি বন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানি, বীমা প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনাও বড় চ্যালেঞ্জ।

সাম্প্রতিক সময়ে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং লোহিত সাগর ও আরব সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো ইয়েমেন থেকে তেল পরিবহারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা

ইয়েমেনের প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩ বিলিয়ন ব্যারেল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য থেকে জানা যায়। একসময় দেশটি দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও যুদ্ধের কারণে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় ৬০ হাজার ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহৃত হবে এবং অবশিষ্ট তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে। বর্তমানে রপ্তানির জন্য ১৭ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বাজারের আস্থা ফেরানো জরুরি

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু তেল উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ২০২২ সালে হুথিদের হামলার পর ইয়েমেনের বন্দরগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে অনেক শিপিং ও বীমা কোম্পানি। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং অনেক ক্রেতাই ইয়েমেনের তেল কিনতে আগ্রহ হারিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে আবার কোনো হামলা হলে পুরো রপ্তানি কার্যক্রম আবারও স্থবির হয়ে যেতে পারে।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের আশা

তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে ইয়েমেনে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, জাতীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু তেল রপ্তানি চালু করলেই দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তেলের আয় সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল শর্ত।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: