odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 6th June 2026, ৬th June ২০২৬
ইউরোপের মাটিতে লাল-সবুজের ইতিহাস, তপু বর্মণের জোড়া গোলে লাল-সবুজের নতুন ইতিহাস

সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক জয়

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৬ June ২০২৬ ০২:৫৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৬ June ২০২৬ ০২:৫৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই ফুটবল ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও মহাকাব্যিক অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শুক্রবার রাতে সান মারিনোর Serravalle শহরের সান মারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণের চোখ ধাঁধানো জোড়া গোলে এই ঐতিহাসিক জয়টি নিশ্চিত হয়।

ইউরোপীয় কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এবং ইউরোপের মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল জয়।নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অধীনে এটিই ছিল বাংলাদেশ দলের প্রথম ম্যাচ। কোচের অভিষেক ম্যাচেই এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেশের ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। সাবেক কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধ্যায়ের পর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া আবার শুরুর একাদশে ফিরে আসেন এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।

ম্যাচের প্রথমার্ধ: তপুর হেডে লিড ও সান মারিনোর সমতা

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। খেলার ১৯তম মিনিটে প্রথম সাফল্যের দেখা পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তরুণ উইঙ্গার শেখ মোরসালিনের দারুণ এক ভাসানো ক্রস থেকে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান ডিফেন্ডার তপু বর্মণ।

ইউরোপের মাটিতে এটিই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল।তবে লিড নেওয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। খেলার ৩০তম মিনিটে রক্ষণভাগের একটি ভুলে সান মারিনোর নিকোলাহ জিয়াকোপেট্টি গোল করে স্বাগতিকদের খেলায় ১-১ সমতায় ফেরান। সমতায় ফেরার পর প্রথমার্ধের বাকিটা সময় দুপক্ষই বেশ কয়েকটি আক্রমণ করলেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধ: স্নায়ুচাপ ও ৮৬ মিনিটের ম্যাজিক

দ্বিতীয়ার্ধে দুদলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে বাংলাদেশ দল তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও গোছানো আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দেয়। গোলরক্ষক মিতুল মারমা বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ৮৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

হামজা চৌধুরীর নেওয়া এক নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে পুনরায় দুর্দান্ত হেডে গোল করেন তপু বর্মণ। তপুর এই জোড়া গোলেই সান মারিনো স্টেডিয়ামে উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে ২-১ গোলের ব্যবধানে এক ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেঙ্গল টাইগাররা।

ম্যাচ হাইলাইটস ও স্কোরবোর্ড:

ফলাফল: সান মারিনো ১ – ২ বাংলাদেশ

গোলদাতা (বাংলাদেশ): তপু বর্মণ (১৯ ও ৮৬)

গোলদাতা (সান মারিনো): নিকোলাহ জিয়াকোপেট্টি (৩০)

স্টেডিয়াম: সান মারিনো স্টেডিয়াম, সেরাভালে

এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয় এটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জের জন্য দলকে প্রস্তুত করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অধিকারপত্রের অভিনন্দন।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: