নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে ফিফার প্রতিযোগিতার অংশবিশেষ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হলেও রক্ষা মেলেনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি উঠেছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফ শনিবার আলাদা বিবৃতিতে ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছে। এর আগে পরিকল্পনাটি থেকে ফিফা সরে আসার ঘোষণা দিলে উয়েফা একে "পুরো ফুটবলের জয়" বলে অভিহিত করে।
কেন এই সংকট?
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ফিফা একটি নতুন বাণিজ্যিক শাখা (Fifa Forward Enterprise - FFE) গঠন করে সেখানে বহিরাগত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের অংশীদার করার পরিকল্পনা করছিল। আমেরিকান ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার।
তবে এই গোপন ও দ্রুতগতির পরিকল্পনা সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। উয়েফা এমনকি হুমকি দেয় যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করবে। শেষ পর্যন্ত তীব্র চাপের মুখে ফিফা এই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটে।
উয়েফার তীব্র আক্রমণ
উয়েফার প্রকাশিত বিবৃতিতে ইনফান্তিনোকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি যে স্বচ্ছতা ও ফুটবলের উন্নয়নে অর্থ খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষায় তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন বলে উয়েফা অভিযোগ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়:
বর্তমান ফিফা নেতৃত্ব কেবল উয়েফারই নয়, বরং ফুটবল পরিবারের বহু সদস্যের আস্থা হারিয়েছে। যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা অত্যন্ত অস্বচ্ছ এবং পেছনের দরজায় আঁটা একটি চুক্তি। ফিফার ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে অলস পড়ে থাকা অর্থ তৃণমূল স্তরের ফুটবলের উন্নয়নে ব্যবহার করা উচিত, পরিবারের রূপোর চামচ বা ঐতিহ্য বিক্রি করে নয়।
কনকাকাফ ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিক্রিয়া
উয়েফার পরপরই কনকাকাফ এক বিবৃতিতে জানায়, ফিফার ভবিষ্যৎ তথা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টকে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।কনকাকাফ সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ না করলেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে: ফিফা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি ফুটবল ও এর সদস্যদের জন্য একটি আমানত। যেখানে এই দায়িত্ব পালন করা হয় না, সেখানে জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও ফিফা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইনফান্তিনোকে ফিফা পরিচালনার ক্ষেত্রে "ভুল ব্যক্তি" হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এছাড়া নরওয়েসহ বেশ কয়েকটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনও ফিফার বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর কড়া সমালোচনা করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।
পদত্যাগ ও প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ
ঘটনার জেরে ফিফার ভেতরেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ফিফার প্রধান অপারেটিং কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামৌর জানিয়েছেন যে প্রশাসনের ভেতরকার শীর্ষ কর্তাদেরই এই প্রকল্পের বিষয়ে "বিভ্রান্তিতে" রাখা হয়েছিল। এছাড়া বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ফিফা সভাপতির বৈশ্বিক কৌশল ও শাসন সংক্রান্ত জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো পদত্যাগ করেছেন। তিনি এই প্রস্তাবকে ফুটবলের জন্য একটি খারাপ চুক্তি" বলে মন্তব্য করেছিলেন। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য পুনরায় সভাপতি পদে লড়ার কথা রয়েছে ইনফান্তিনোর। তবে বর্তমানের এই নজিরবিহীন ও ঝড়ো সমালোচনার মুখে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: