প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬ | অধিকারপত্র ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রায়-উপযোগী উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন ভান্ডার আরও সুরক্ষিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। মজুতাগারের সুড়ঙ্গগুলো পরিকল্পিতভাবে ধসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, প্রবেশপথে পাতা হচ্ছে বিস্ফোরক মাইন ও বুবি-ট্র্যাপ। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আধা টন উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রাখা হয়েছে। মাত্র এক মাস আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীকে এসব পারমাণবিক উপাদান জব্দের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ প্রস্তাবিত চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংস করা।
এদিকে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার আলোচনায় ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের কূটনৈতিক মিশন কিংবা হোয়াইট হাউস।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং সেগুলো ধ্বংস বা দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
তবে চুক্তির খসড়া নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে চুক্তির খসড়া ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানের পক্ষেও ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ এসব ভান্ডারে পৌঁছাতে প্রয়োজন হবে ভারী খননযন্ত্র এবং মাইন অপসারণ অভিযান, যা সময়সাপেক্ষ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোকার বলেন, যদি এসব তথ্য সঠিক হয়, তাহলে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে জটিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরান দাবি করতে পারে যে কিছু ইউরেনিয়াম আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়, যা আন্তর্জাতিক তদারকির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করবে।
আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ মধ্য ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনার ধসে পড়া সুড়ঙ্গগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে। বাকি অংশ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, মে মাসে এসব পারমাণবিক উপাদান জব্দ করতে বিশেষ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ঝুঁকি অত্যধিক হওয়ায় শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং ইউরেনিয়াম অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ কারিগরি আলোচনা প্রয়োজন হবে। কারণ মাটির গভীরে সুরক্ষিতভাবে রাখা এসব উপাদান অপসারণ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: