অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং পেন্টাগনের সঙ্গে গণমাধ্যমের টানাপোড়েন সেই প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলছে।
আল জাজিরার ‘দ্য লিসেনিং পোস্ট’-এর ১২ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রচারণা, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময় ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের বিষয়ে জনমনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে জ্বালানি ও মুদি পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সরকারের জন্য সেই বার্তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পেন্টাগনের সম্পর্কের টানাপোড়েন যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য ও সরকারি বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
আল জাজিরার অনুষ্ঠানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং গণমাধ্যম নিয়ে আলোচনা করেন ইনকস্টিকের প্রধান সম্পাদক লাইসি হিলি, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট, ‘দ্য ইরান পডকাস্ট’-এর উপস্থাপক নেগার মরতাজাভি এবং ‘অন দ্য লাইন মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা সামিরা মোহায়েদ্দিন।
প্রতিবেদনটির আরেক অংশে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর সাম্প্রতিক প্রকাশনা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে ৭ অক্টোবরের হামলার আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কী জানতেন—এমন প্রশ্নকে ঘিরে ইসরায়েলে তৈরি হওয়া বিতর্ক তুলে ধরা হয়। নেতানিয়াহু ওই প্রতিবেদনকে বানোয়াট বলে দাবি করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং সে সময়কার সংবাদ পরিবেশনের কারণে জনগণের একটি অংশের মধ্যে তৈরি হওয়া আস্থার সংকট নিয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: