প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: দেশের শিশুস্বাস্থ্যসেবায় নতুন যুগের সূচনা করতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে আধুনিক আইসিইউ সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল ও খুলনার হাসপাতাল দুটি আগামী আগস্টের শুরুতেই চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব হাসপাতালের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি-প্যারামিটার মনিটর ও ফটোথেরাপি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকবে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের পাঁচ অঞ্চলে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।”
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লার হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রংপুর ও রাজশাহীর হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
রংপুর শিশু হাসপাতাল দীর্ঘ ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে। একইভাবে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী শিশু হাসপাতাল আগামী তিন মাসের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম ধাপে কিছু হাসপাতালে বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালু করা হবে। পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য বিশেষায়িত সেবা যুক্ত করা হবে।
সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি সহজ হবে এবং রাজধানীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: