নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৭ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ৩৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি ভাইরাসটি নতুন নতুন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিস্তার ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতুরির রাজধানী বুনিয়া থেকে একজন সংক্রমিত ব্যক্তি ওত-উয়েলে প্রদেশে ভ্রমণের পর সেখানে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে ইতুরি, উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভুর পর চতুর্থ প্রদেশ হিসেবে ওত-উয়েলেতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ল। ওত-উয়েলে অঞ্চলের সীমান্ত দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাস এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, ঐতিহ্যবাহী দাফন প্রক্রিয়ার সময় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকটের সতর্কবার্তা
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করেছে যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই প্রাদুর্ভাব আফ্রিকার অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সংস্থাটির মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মহাদেশটির অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারাতে পারেন।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি ড্যামিয়েন মামা বলেন, প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্যথায় এটি আফ্রিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সংকটে রূপ নিতে পারে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ
সংক্রমণ রোধে ডিআর কঙ্গো সরকার রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সংবিধান সংস্কারের দাবিতে নির্ধারিত বিক্ষোভের মুখে এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এদিকে, বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
বর্তমানে এই অঞ্চলের দেড় কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সংক্রমণের উৎস শনাক্ত এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: