প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম:** যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। লন্ডনের কেমব্রিজে তাকে বহনকারী গাড়ি ও স্থানীয় এক যুবকের মাঝে সৃষ্ট এক ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি পুলিশ ও মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে।
যুক্তরাজ্যের এনসিপি জোটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, এই ঘটনায় হাসনাত আবদুল্লাহসহ মোট ৪ জন এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক বিবৃতিতে হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, ঘটনার মূল সময়টিতে তিনি সরাসরি মারামারির স্থানে উপস্থিত ছিলেন না। পুরো ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে উভয় পক্ষের মাঝে তীব্র মতবিরোধ ও পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
অভিযোগকারী জুবায়েরের বক্তব্য ও ছুরিকাঘাতের দাবি**
এই ঘটনায় নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করা তরুণের নাম জুবায়ের আহমেদ। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত এবং বর্তমানে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির একটি ল্যাবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জুবায়ের আহমেদের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কাজ শেষে তিনি মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহকে বহনকারী একটি কালো রঙের প্রাইভেট কারের সাথে সাইড দেওয়া-নেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। এরপর তিনি
মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়িটির পিছু নেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা শুরু করেন। জুবায়েরের অভিযোগ, এক পর্যায়ে গাড়ি থেকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নেমে এসে তার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার ওপর অতর্বিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি তাকে পেটের নিচে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। জুবায়ের সরাসরি কেমব্রিজ এনসিপি নেতা জাকির চৌধুরী এবং হাসনাত আবদুল্লাহর নাম উল্লেখ করে এই হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
**পাল্টা দাবি: উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও ধারণ ও রাজনৈতিক বিরোধ**
এদিকে ঘটনাটির সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চিত্র তুলেধরেছেন হাসনাত আবদুল্লাহর সাথে সফররত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী। তাদের দাবি, কেমব্রিজের একটি রেস্টুরেন্টে তারা যখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন, তখন ফুড ডেলিভারির কাজের সাথে যুক্ত থাকা জুবায়ের আহমেদ দূর থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তাদের পুরো দলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।
এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রেস্টুরেন্টের সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় কড়া কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে হাসনাত আবদুল্লাহর দল গাড়ি নিয়ে স্থান ত্যাগ করলে জুবায়ের মোটরসাইকেল নিয়ে অবিরাম তাদের গাড়িটি তাড়া করতে থাকেন। এক পর্যায়ে গাড়ি থামিয়ে তাদের মাঝে পুনরায় তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জুবায়েরের সাথে যখন অন্যদের হাতাহাতি হচ্ছিল, তখন হাসনাত আবদুল্লাহ পুরোটা সময় গাড়ির ভেতরেই বসা ছিলেন। মারামারির ঘটনার সাথে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
পুলিশের পদক্ষেপ ও
বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার সময় উপস্থিত এক ব্রিটিশ নারী প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মিলে একজনকে মারধর করে দ্রুত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে আহত যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
জানা গেছে, ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেমব্রিজ পুলিশ ওই রাতেই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জাকির চৌধুরী নামের এক এনসিপি নেতাকে আটক করে। অবশ্য পরদিনই তিনি আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্তি পান। অন্যদিকে, গত ২০ জুন কেমব্রিজ পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসনাত আবদুল্লাহকে থানায় ডাকলে তিনি তার অফিশিয়াল সলিসিটর বা আইনজীবীসহ সন্ধ্যায় থানায় হাজির হন। সেখানে তিনি নিজের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও ঘটনার বিবরণ লিপিবন্ধ করার পর থানা থেকে বিদায় নেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি সাধারণ কোনো ট্রাফিক আইন সংক্রান্ত বিরোধ নাকি রাজনৈতিক বৈরিতার জের—তা নিশ্চিত হতে পুরো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: