odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 13th July 2026, ১৩th July ২০২৬
বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম ৫ দিনে ১৩ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি হাজারো মানুষ। অন্যদিকে সাপের উপদ্রব চরমে- হাসপাতালে ৭৫ জন ভর্তি, অ্যান্টি-ভেনম নিয়ে প্রস্তুতি

চট্টগ্রামে বন্যার পানিতে সাপের উপদ্রব উদ্বেগজনক: হাসপাতালে বাড়ছে সাপে কাটা রোগীর ভিড়

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১২ July ২০২৬ ২২:৫০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১২ July ২০২৬ ২২:৫০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

চট্টগ্রামে অতিভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং পাহাড় ও দেয়াল ধসের ঘটনায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই এই পাঁচ দিনে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বন্যা ও পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৭ জন।

হতাহতের বিস্তারিত চিত্র

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় মৃত ১৩ জনের মধ্যে ৬ জন শিশু, ৪ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন। দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৯০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৫ জনই সাপে কাটার শিকার হয়েছেন। এছাড়া পাহাড় ধসে ২ জন, দেয়াল ধসে ২ জন এবং অন্যান্য ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন।

সাপে কাটার ঘটনার উপ-বিভাগীয় তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পটিয়া (২২ জন) ও বোয়ালখালী (২০ জন) উপজেলায়। এছাড়া রাউজানে ১৪ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন, সাতকানিয়ায় ৩ জন, চন্দনাইশে ৩ জন এবং লোহাগাড়ায় ২ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাপে কাটা ৭৫ জনের কেউই এখন পর্যন্ত মারা যাননি। তিনি বলেন, বন্যার কারণে আশ্রয়কেন্দ্র ও বসতবাড়িতে সাপের উপদ্রব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আমরা প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত অ্যান্টি-ভেনম নিশ্চিত করেছি। তিনি আরও জানান, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে বেশ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে।

পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি

সাপে কাটার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ২০ থেকে ২৫ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সিভিল সার্জন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও স্যানিটেশন সমস্যার কারণে পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠিয়ে ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওআরএস বিতরণ করছি।

জনসাধারণের প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ স্বাস্থ্য বিভাগ বন্যাদুর্গত বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে:

রাতে চলাফেরার সময় অবশ্যই টর্চলাইট ব্যবহার করুন।

পানিতে নামার আগে লাঠি দিয়ে জায়গাটি পরীক্ষা করে নিন।

সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে না গিয়ে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

নিরাপদ পানি পান নিশ্চিত করুন এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা মেনে চলুন।

প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের দ্রুত নৌকায় করে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: