আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই
তেহরান/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘিরে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব দাবির অনেকগুলোরই নির্ভরযোগ্য সরকারি বা স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি বক্তব্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হোসাইন কানানি মোগাদ্দামের নামে দাবি করা হয়েছে, ইরান চাইলে হোয়াইট হাউজের ভেতরেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। একই বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেটি সম্পূর্ণ ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তবে এই বক্তব্যটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে আরেকটি ভাইরাল ভিডিওতে এক রুশ কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, ইরানের কাছে হাইড্রোজেন বোমা রয়েছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রচলিত পারমাণবিক অস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু এ দাবির পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) কিংবা বিশ্বের স্বীকৃত কোনো রাষ্ট্র ইরানের কাছে হাইড্রোজেন বোমা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে প্রচারিত একটি উদ্ধৃতিতে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বলেছেন, "হরমুজ প্রণালী এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে, সবাইকে ২০ শতাংশ টোল দিয়ে চলাচল করতে হবে।" একইভাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নামেও একটি হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইরানের কোনো সরকারি সূত্রে এসব বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে উদ্ধৃতিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়। সংঘাতের সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা এবং অতিরঞ্জিত দাবি ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ফ্যাক্ট-চেক
- ট্রাম্পকে লক্ষ্য করার বক্তব্য: স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।
- ইরানের কাছে হাইড্রোজেন বোমা রয়েছে: কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বা রাষ্ট্র নিশ্চিত করেনি।
- "হরমুজ আমাদের নিয়ন্ত্রণে, ২০% টোল"—ট্রাম্পের নামে প্রচারিত উদ্ধৃতি: নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রে নিশ্চিত নয়।
- আব্বাস আরাঘচির নামে প্রচারিত হুঁশিয়ারি: সরকারি সূত্রে নিশ্চিত নয়।
অধিকারপত্র ডটকম পাঠকদের প্রতি আহ্বান জানায়, আন্তর্জাতিক সংঘাত-সংক্রান্ত ভাইরাল তথ্য বিশ্বাস বা প্রচারের আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যাচাই করুন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: