odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 6th September 2026, ৬th September ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাতে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত ও শত শত আহত।

ট্রাম্প বললেন, ইরান সংঘাত ‘ছোটখাটো বিষয়’ | অধিকার পত্র

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ September ২০২৬ ২১:৩৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ September ২০২৬ ২১:৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়; বরং বিরতিতে বিরতিতে সংঘটিত একটি সামরিক সংঘাত। তবে এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শত শত সেনা আহত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, অনেকে এই পরিস্থিতিকে যুদ্ধ বলতে চান না। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ‘ছোটখাটো বিষয়’ এবং বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যুদ্ধও চলছে না।

ট্রাম্প বলেন, সংঘাতটি অনেকটা ‘বিরতিসাপেক্ষ’। মাঝে মাঝে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে, তবে বর্তমানে বড় ধরনের লড়াই হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

এর একদিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সংঘাতটিকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত না করার পক্ষে মত দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কয়েক মাস আগেই বড় ধরনের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।

তবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশে প্রায় ৬০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনা, মাইন পাতা-সংক্রান্ত সক্ষমতা এবং যোগাযোগব্যবস্থা ছিল। একই সময়ে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সামরিকভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজও চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তেহরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগ সংকুচিত করার চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সহযোগী চীনের বিরুদ্ধে এখনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের ভূমিকা নিয়েও ট্রাম্প মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে চীনের সম্পৃক্ততা খুবই সীমিত। তবে তাঁর ভাষায়, চীন চাইলে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন ট্রাম্প। সিরিয়ার মধ্য দিয়ে স্থলভিত্তিক পাইপলাইন ও অন্যান্য বিকল্প রুট ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কমে যেতে পারে।

এর মধ্যেই ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ‘পিকঅ্যাক্স’ নামে পরিচিত স্থাপনাটিতে খুব শিগগির হামলা চালানো হতে পারে বলে জানান তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সেখানে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নিয়ে থাকতে পারে।

তবে এসব সামরিক তৎপরতার মধ্যেও ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষায়, এটি একটি সামরিক সংঘাত, যা মাঝেমধ্যে সংঘটিত হচ্ছে।

সূত্র: CNN

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: