odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 4th September 2026, ৪th September ২০২৬
প্রথম বছরে আড়াই লাখ এবং পরের ছয় বছরে আরও প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে গাজা থেকে সরানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইতামার বেন-গভির

গাজার সব বাসিন্দাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, সময়সীমা ৭ বছর: ইসরায়েলি মন্ত্রী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৪ September ২০২৬ ০০:০২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৪ September ২০২৬ ০০:০২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সরিয়ে বিদেশে পাঠানোর একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। বেন-গভিরের দাবি, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং গাজার বাসিন্দাদের গ্রহণ করতে কয়েকটি দেশ প্রস্তুত রয়েছে। তবে কোন কোন দেশ এতে আগ্রহী, সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম উল্লেখ করেননি।

বেন-গভির বলেন, পরিকল্পনার প্রথম বছরে গাজা থেকে প্রায় আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে উপত্যকায় থাকা আরও প্রায় ২০ লাখ মানুষকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাত বছরের মধ্যে গাজার বর্তমান জনসংখ্যার বড় অংশকে উপত্যকার বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জোরপূর্বক বেসামরিক নাগরিক সরানো নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন

আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জেনেভা কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী, দখলদার শক্তির হাতে বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক স্থানান্তরের বিষয়টি যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়তে পারে।

বেন-গভিরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ বসবাস ও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বাড়ার দাবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

সেই সীমারেখা কার্যকর হলে গাজার প্রায় ৪৭ শতাংশ এলাকা ফিলিস্তিনিদের এবং ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল।

তবে চুক্তির নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহারের পরিবর্তে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় তাদের সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা আনুমানিক ৬৬ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বেন-গভিরের নতুন পরিকল্পনা এবং গাজার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের বিস্তার ফিলিস্তিনি জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: