odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 19th September 2026, ১৯th September ২০২৬

শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার মিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর, চিকিৎসক-স্টাফকে মারধরের অভিযোগ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৮ September ২০২৬ ২৩:৪০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৮ September ২০২৬ ২৩:৪০

 

অধিকার সংযুক্ত নিউজ

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ডোবায় ডুবে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ সময় কর্তব্যরত দুই চিকিৎসক, এক স্টাফ ও এক আনসার সদস্যকে মারধর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বির আহাম্মেদের তিন বছর বয়সী ছেলে রাফি ডোবার পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি বিভাগে শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজন ও গ্রামের কয়েকজন লোক হাসপাতালে আসেন। এ সময় তারা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার রিয়াজুন জান্নাত, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদ, জরুরি বিভাগের স্টাফ জসিম এবং আনসার সদস্য বিজয়কে মারধর করা হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ছাড়া জরুরি বিভাগের পাশে থাকা চিকিৎসকের চেম্বারেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে জানালার কাঁচ, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিযূষ কুমার সাহা বলেন, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃত শিশুর ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের সময় স্বজনরা হামলা ও ভাঙচুর চালান। ঘটনাটি দুঃখজনক।

তবে শিশুটির বাবা সাব্বির আহাম্মেদ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেন। তার দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন চিকিৎসক শিশুটির বুক পরীক্ষা করে কক্ষে চলে যান। এরপর প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট কোনো চিকিৎসক তাদের কিছু জানাননি। পরে আরেকজন চিকিৎসক এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। এ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে কক্ষের কাঁচ ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন। তবে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, হামলার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।