odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 5th November 2026, ৫th November ২০২৬
একাত্তরের জন্য ক্ষমা চাওয়া, নেতৃত্বের আধুনিকায়ন ও তরুণদের সম্পৃক্ততাসহ জামায়াতে ইসলামীকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়ে গেছেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

জামায়াতকে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের ৫ পরামর্শ, একাত্তরের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২০ September ২০২৬ ২১:৫৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২০ September ২০২৬ ২১:৫৬

অধিকারপত্র ডটকম, অনলাইন ডেক্স

জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখতে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে নিজের স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। তিনি দলটির সামনে পাঁচটি পরামর্শ রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, নেতৃত্বের আধুনিকায়ন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বৈচিত্র্য আনা, তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠন।

‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ নামে আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটি তাঁর মৃত্যুর পর ২০২৬ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) থেকে প্রকাশিত হয়। বইটির শেষাংশে ‘জামায়াতের সামনে এগোনোর পথ’ অধ্যায়ে দলটির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন তিনি।

আবদুর রাজ্জাকের মতে, ১৯৭১ সালের ভূমিকার বিষয়টি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলটির টেকসই রাজনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য নিজেদের ইতিহাসের সঙ্গে সৎভাবে সম্পৃক্ত হওয়া এবং জবাবদিহির বিষয়টি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব

বইয়ে জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল জনমিতি ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে দলটির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি তরুণদের দলের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আরও অর্থবহভাবে যুক্ত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বৈচিত্র্যের পরামর্শ

আবদুর রাজ্জাক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও যুবনীতির মতো সমসাময়িক বিষয়কে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর লেখায় জামায়াতের প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ান ও সাংগঠনিক পদ্ধতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

তিনি আরও মনে করেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত হওয়া এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করা প্রয়োজন।

যে ৫ পরামর্শ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক

বইয়ের শেষাংশে জামায়াতের জন্য তাঁর দেওয়া পাঁচটি পরামর্শ হলো—

১. অতীতের মুখোমুখি হওয়া: ১৯৭১ সালে নিজেদের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং জবাবদিহির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।

২. নেতৃত্বের আধুনিকায়ন: তরুণ ও সংস্কারপন্থী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো।

৩. রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বৈচিত্র্য আনা: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া।

৪. তরুণদের সম্পৃক্ত করা: তরুণদের আকৃষ্ট করতে সময়োপযোগী রাজনৈতিক বয়ান ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

৫. আস্থা পুনর্গঠন: নাগরিক সমাজের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং জাতীয় ইস্যুতে উন্মুক্ত ও গঠনমূলক সংলাপে অংশ নেওয়া।

আবদুর রাজ্জাক ২০১৯ সালে জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর বইয়ে দলটির সংস্কার, নেতৃত্ব ও ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে।

নোট: ওপরের প্রতিবেদনটি ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে দেওয়া মূল্যায়ন ও পরামর্শকে ভিত্তি করে লেখা; এগুলো অধিকার পত্রের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন নয়।