odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 6th November 2026, ৬th November ২০২৬
নেতানিয়াহুর জোট ৫৩, আইজেনকোটের জোট ৪৮ আসন পেয়েছে; ১৯ আসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আরব দলগুলো।

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে নতুন সংকট, জোট গড়তে দলগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আলোচনা শুরু

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ November ২০২৬ ০০:০০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ November ২০২৬ ০০:০০

অধিকারপত্র ডটকম অনলাইন ডেক্স / আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক :

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা; সরকার গঠনে আরব দলগুলো হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন।

প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, নতুন নির্বাচন এড়াতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি ও দাবি বাস্তবায়নের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।

 নির্বাচনের ফল: সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট, কিন্তু ক্ষমতা নিশ্চিত নয়

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের ২৬তম নেসেট নির্বাচনে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি।

চূড়ান্ত ফলাফলে আসন বণ্টন:

| রাজনৈতিক দল বা জোট | আসন |
| -------------------------------------- | --- |
| বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট | ৫৩ |
| গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট | ৪৮ |
| আরব নেতৃত্বাধীন দুই জোট | ১৯ |
| মোট | ১২০ |

ফলে সংখ্যার হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৮ আসন পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের ঘাটতি ১৩ আসন।

আরব নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্টের সম্মিলিত ১৯টি আসন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ইহুদি দলগুলোর অধিকাংশই নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অংশীদার না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ফলে এই আসনগুলো কাজে লাগানো রাজনৈতিকভাবে জটিল।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হারজগ ৪ নভেম্বর থেকে নির্বাচিত দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। আলোচনা শেষে তিনি এমন একজন সংসদ সদস্যকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যাঁর সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে হবে। দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। Israel Government 

নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ, তদন্তে শিন বেত

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নেতানিয়াহুর শিবির থেকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারে—এমন কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সলবার্গ বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভিত্তিহীন সন্দেহ ছড়ানো গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

এদিকে বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্ত করছে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। কাতার আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে অর্থায়ন করেছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগটি категорিকভাবে অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হারজগ তদন্তের প্রতি আস্থা প্রকাশ করলেও অভিযোগের কারণে আরব ইসরায়েলিদের সামগ্রিকভাবে অপবাদ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বর্ণবাদী বক্তব্যেরও নিন্দা করেছেন।

 নেতানিয়াহু ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা

নির্বাচনের ফলাফল ও তদন্তকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু ও তাঁর দল গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে লিকুদ পার্টি অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারার বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

শিন বেতপ্রধান ডেভিড জিনির পক্ষ থেকে চার আরব রাজনীতিককে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়ার খবরও সামনে এসেছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন না হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে আপত্তি জানিয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক সংকট শুধু সরকার গঠনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আরব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বও বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। The Times of Israel +2

 সামনে কী হতে পারে?

ইসরায়েলের সামনে এখন কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে:

1\. নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে নতুন জোট: ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা।

2\. আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার: বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি আরব দলগুলোর সমর্থন বা সহযোগিতা আদায়ের চেষ্টা।

3\. জাতীয় ঐক্যের সরকার: রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দুই প্রধান শিবিরের কিছু দলকে নিয়ে সরকার গঠন।

4\. নতুন নির্বাচন: কোনো পক্ষই সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে দেশটিকে আবার নির্বাচনের দিকে যেতে হতে পারে।

এখন প্রেসিডেন্টের পরামর্শ প্রক্রিয়া এবং দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতাই নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ। The Jerusalem Post +1

অধিকার পত্র ডটকমের সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ

ইসরায়েলের এবারের নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে। নেতানিয়াহুর জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের নিশ্চয়তা পায়নি। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ডসংখ্যক ১৯টি আসন পেয়ে ক্ষমতার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে এসেছে।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও পারস্পরিক সমঝোতাও এখন সরকার গঠনের জন্য অপরিহার্য। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে নয়।

ইসরায়েলে শেষ পর্যন্ত কে সরকার গঠন করবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সমঝোতা, দলগুলোর সমর্থন এবং প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর।