রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি | অধিকারপত্র ডটকম
মাদারীপুরের রাজৈরে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জান্নাতুল ইসলাম মাইসাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী সুজন মুন্সীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জান্নাতুল ইসলাম মাইসা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদী এলাকার হাবিবুর রহমান সেজালের মেয়ে। অভিযুক্ত সুজন মুন্সী একই ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামের আব্দুর রব মুন্সীর ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবপ্রবাসী সুজন মুন্সীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে মাইসার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে মাইসাকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে একপর্যায়ে মাইসাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে সুজন তাঁকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে মাইসার পরিবারকে খবর দেন।
হাসপাতালে গিয়ে মাইসার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা। তাঁদের সন্দেহ হলে রাজৈর থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুজন মুন্সীকে আটক করে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় মাইসা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ফলে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে তা গ্রহণ করা হবে।
মাইসার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তাঁর শরীরে থাকা আঘাতের ধরন এবং মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল—এসব বিষয় ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
অধিকার পত্র ডটকমের পক্ষ থেকে: অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
