অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ জানানো হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানান।
রুবিও বলেন, পুতিনকে জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তার মতে, এই সম্মেলন রুশ প্রেসিডেন্টকে শুধু ট্রাম্পের সঙ্গে নয়, অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গেও আলোচনার সুযোগ দেবে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, পুতিন আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন।
পুতিনের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়
ক্রেমলিন জানিয়েছে, ডিসেম্বরের জি২০ সম্মেলনে পুতিন অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আমন্ত্রণকে রাশিয়া গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুতিন আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে এটি হবে ২০১৯ সালের পর তার প্রথম সরাসরি জি২০ সম্মেলনে উপস্থিতি। ২০২১ সালে তিনি ভার্চুয়ালি জি২০ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং ২০২৩ সালে ভারতের আয়োজিত সম্মেলনে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ।
ইউক্রেন যুদ্ধই আলোচনার কেন্দ্রে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসন মস্কো ও কিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তবে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এখনো বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে রুবিও সীমিত পরিসরে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহনকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ অবশ্য বলেছেন, মস্কো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি সমাধানের বিষয়ে আগ্রহী।
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা
জি২০ সম্মেলনে পুতিন উপস্থিত হলে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দুই নেতা সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক করেন ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে। সে বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
তবে পুতিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ও রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৩ সালে ইউক্রেনের শিশুদের রাশিয়ায় স্থানান্তরের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।
মায়ামির জি২০ সম্মেলনে পুতিনের সম্ভাব্য উপস্থিতি তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের জন্য নয়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
