odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 25th September 2026, ২৫th September ২০২৬
চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ চেয়ে ওয়াশিংটন ডিসির আদালতে মামলা করেছেন একদল ইরানিয়ান-আমেরিকান। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধের কারণে ইরানে থাকা পরিবারের সদস্যদের জীবন, সম্পদ ও মৌলিক প্রয়োজন হুমকির মুখে পড়েছে

ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা, আদালতের দ্বারস্থ ইরানিয়ান-আমেরিকানরা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ September ২০২৬ ০৩:৫৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ September ২০২৬ ০৩:৫৪

অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মূল প্রতিবেদন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল ইরানিয়ান-আমেরিকান।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাটি করেছে ইরানিয়ান-আমেরিকানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল (NIAC)। সংগঠনটির অভিযোগ, চলমান যুদ্ধ সাংবিধানিকভাবে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতার ওপর বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণকে পাশ কাটিয়ে চলছে এবং এতে তাদের সদস্য ও ইরানে থাকা পরিবারের সদস্যরা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও একজন সাবেক মার্কিন সেনাসদস্যও রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্য ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত বা আহত হয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে এবং কেউ দৈনন্দিন কাজের সময় হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সংকট, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সমস্যা এবং ভ্রমণে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে।

বাদীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন যথাযথ আইনি অনুমোদন ও পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। মামলায় ইরানে হাজারো বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে। তবে এসব হতাহতের সংখ্যা ও যুদ্ধের বিভিন্ন অভিযোগ এখানে মামলাকারীদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

NIAC-এর প্রেসিডেন্ট জামাল আবদি বলেন, কোনো প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে একটি দেশকে অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধে রাখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মামলাটি মূলত প্রশ্ন তুলেছে—একজন প্রেসিডেন্ট একাই কি একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?

এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরেই জাতিসংঘের একটি তথ্য অনুসন্ধানী মিশন ইরানে মার্কিন হামলার কয়েকটি ঘটনায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের কথা জানিয়েছে বলে আল জাজিরা উল্লেখ করেছে। ওই মিশনের বক্তব্যও এখানে সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ তদন্তের পর্যবেক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত আদালতের রায় হিসেবে নয়।

এর মধ্যেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরে চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় ফিরে না এলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার বিষয়টি বিবেচনার কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলার প্রেক্ষাপটে এই মামলা এখন যুদ্ধের সামরিক দিকের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়েও নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি করেছে।