odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 25th September 2026, ২৫th September ২০২৬
জাতিসংঘের সাইড ইভেন্টে ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের উদ্যোগসহ সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরলেন ডা. জুবাইদা রহমান

প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পুনর্বিন্যাস করছে বাংলাদেশ: ডা. জুবাইদা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ September ২০২৬ ০৪:৫০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ September ২০২৬ ০৪:৫০

নিউইয়র্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও ধারাবাহিক সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।

অধিকারপত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ০:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চলমান ও পরিকল্পিত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যাকে একীভূতকরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডা. জুবাইদা।

তিনি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে যেতে চায় বাংলাদেশ, যেখানে রোগ প্রতিরোধ, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং ধারাবাহিক সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান জানান, গ্রাম থেকে শহরের ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে শক্তিশালী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মী ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত থাকবে। এই ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্রে থাকবে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা।

তিনি বলেন, ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে শুধু ধাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো নয়, তাদের বহুপেশাজীবী সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

ডা. জুবাইদা বলেন, গর্ভধারণের আগের সময় থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব, প্রসব-পরবর্তী সময় এবং নবজাতকের সেবা—পুরো সময়জুড়ে ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চান তারা।

আলোচনায় উপস্থাপিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মডেলে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার পুরো যাত্রায় ধাত্রীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার কথা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সেবার পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিবার ও কমিউনিটিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

ডা. জুবাইদার মতে, মিডওয়াইফ নেতৃত্বাধীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের জন্য উন্নততর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার, শক্তিশালী আর্থিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর সুফল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও কাছাকাছি আনা, নিজস্ব অর্থে স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে মর্যাদাপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি নারীর বাসস্থানের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার ধাত্রীর সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশগুলো নিজ নিজ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপযোগী সমাধান তৈরির পাশাপাশি একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সেই সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, “পেশাদার ধাত্রীরা জীবন রক্ষা করেন। এখন আমাদের কাজ হলো এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা তাদের কার্যকরভাবে, সমতার ভিত্তিতে এবং টেকসইভাবে এ কাজ করার সক্ষমতা সৃষ্টি করবে।”

আলোচনাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় অব্যাহত রাখার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সিয়েরা লিওন, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সুইডেন সরকার ও ইউএনএফপিএর অংশীদারিত্বে এ উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।