odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 2nd October 2026, ২nd October ২০২৬
‘ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের একক সম্পত্তি নয়’—বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থসহ মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের দলিল সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান

বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চায় বাধা নয়, উন্মুক্ত পাঠ–প্রকাশ–গবেষণার সুযোগ চায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১ October ২০২৬ ২৩:৪৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১ October ২০২৬ ২৩:৪৪

অধিকার পত্র ডেস্ক- বিশেষ প্রতিবেদন | ঢাকা

বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালির গণতান্ত্রিক-স্বাধিকার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বই ও ঐতিহাসিক দলিলের প্রকাশ, পাঠ, সংরক্ষণ ও গবেষণায় অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। ৩০ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে সংগঠনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়াচীন’-সহ ঐতিহাসিক উৎস সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে—ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের একক সম্পত্তি নয়; প্রামাণ্য দলিল, গবেষণা, যুক্তি ও মুক্তবুদ্ধির মাধ্যমে ইতিহাসচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালির দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ও মুক্তির সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বই ও ঐতিহাসিক দলিলের প্রকাশ, পাঠ, প্রচার, সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত “বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস রক্ষা করার আহ্বান” শিরোনামের এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে সংগঠনটি এ অবস্থান তুলে ধরে। বিবৃতিটির ইংরেজি সংস্করণের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে—“A Call to Preserve the Self-Identity of the Bengali Nation and the History of Bangladesh’s Creation.”

বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাঙালির গণতান্ত্রিক ও মুক্তির সংগ্রাম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক দলিলের প্রকাশ, পাঠ, প্রচার ও গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে তারা উদ্বিগ্ন। তবে কোন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট ঘটনার মাধ্যমে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে—সংযুক্ত বিবৃতিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা নির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়া হয়নি। ফলে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের আওতায় করা সম্ভব হয়নি।

আরো পড়ুন: বইয়ের দোকানে তালা, জ্ঞানচর্চার দ্বারে আঘাত │ জ্ঞানকে রুদ্ধ করিলে মুক্তির পথও যে রুদ্ধ হইয়া যায়—অধিকারপত্র সম্পাদকীয় : অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ লইয়া বিতর্ক হইতে পারে; প্রকাশক, বিক্রেতা ও পাঠকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করিয়া ইতিহাসচর্চার পরিসর সংকুচিত করিবার অধিকার কাহারও নাই

‘ইতিহাস কারও একক সম্পত্তি নয়’

বিবৃতির অন্যতম কেন্দ্রীয় বক্তব্য হলো—ইতিহাসকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়।—সংগঠনটির ভাষায়, ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও অর্জনের সামষ্টিক দলিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অভ্যুদয়ের ইতিহাসকে তারা ভাষা, অধিকার, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

এই ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে সংগঠনটি ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছে।তাদের বক্তব্য, ইতিহাসের মূল্যায়ন বা ব্যাখ্যায় মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু সেই  মতপার্থক্য যেন ঐতিহাসিক উৎস, বই ও দলিলের নাগাল সীমিত করার কারণ না হয়।

বঙ্গবন্ধুর তিন গ্রন্থের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ

বিবৃতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ও তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক তিনটি বহুল আলোচিত গ্রন্থের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’
  • ‘কারাগারের রোজনামচা’
  • ‘আমার দেখা নয়াচীন’

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এসব গ্রন্থকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছে।

সংগঠনটির মতে, এসব গ্রন্থে ভাষা আন্দোলন, বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাস সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের উপাদান রয়েছে।

তাদের আহ্বান—এসব বইয়ের পাঠ, বিশ্লেষণ ও গবেষণার ক্ষেত্র সংকুচিত না করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের জন্য আরও বিস্তৃত করা উচিত।

ইতিহাসকে ‘গণ্ডিবদ্ধ’ না করার আহ্বান

প্রতিবাদ বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসকে কোনো নির্দিষ্ট বয়ান বা সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করারপরিবর্তে প্রামাণ্য দলিল, গবেষণা, যুক্তি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

এখানে তাদের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইতিহাসচর্চাকে কেবল আবেগ কিংবা দলীয় অবস্থানের বিষয় হিসেবে না দেখে দলিলভিত্তিক অনুসন্ধান ও যুক্তিনির্ভর গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

বিবৃতিতে প্রকাশনার স্বাধীনতা, জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা এবং ইতিহাস পাঠের অধিকারকে একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক চাপ কিংবা খেয়ালখুশির কারণে কোনো বই প্রকাশ, বিক্রি, পাঠ, সংরক্ষণ বা গবেষণার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি।

বইয়ের পাশাপাশি দলিল ও আর্কাইভও উন্মুক্ত করার দাবি

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের দাবি শুধু বইয়ের প্রকাশ বা বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের বিবৃতিতে বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তির সংগ্রামসংক্রান্ত—গুরুত্বপূর্ণ বই, প্রামাণ্য দলিল, নথি ও ঐতিহাসিক উপাদানের সংরক্ষণ, গবেষণা এবং জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, ঐতিহাসিক উপাদান গোপন, সীমাবদ্ধ কিংবা অপ্রাপ্য করে রাখা উচিত নয়। বরং যেসব নথি ও দলিল সংরক্ষণযোগ্য, সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজেশন করে গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে ও গবেষণা করতে পারবে—এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।

ইতিহাসচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘প্রামাণ্য দলিল’

বিবৃতিটির আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, সংগঠনটি ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা গ্রহণের আহ্বান জানানোর পরিবর্তে প্রামাণ্য দলিল, গবেষণা, যুক্তি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে।—এ অবস্থান বাস্তবে কার্যকর হলে ইতিহাসচর্চার জন্য বই, আর্কাইভ, ব্যক্তিগত নথি, সরকারি দলিল, সংবাদপত্র, মৌখিক ইতিহাস এবং অন্যান্য প্রাথমিক উৎসে গবেষকদের প্রবেশাধিকার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ইতিহাসের উৎস উন্মুক্ত করার বিষয়টি শুধু সংরক্ষণের প্রশ্ন নয়; কোন নথি কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে, গবেষকরা কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে পারছেন এবং ডিজিটাল আর্কাইভ কতটা সহজলভ্য—এসব প্রশ্নও সামনে আসে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় সংগঠন

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, একাডেমিক পরিবেশ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামাজিক ইস্যুতে একাধিক বিবৃতি দিয়েছে। আগস্টে সংগঠনটি ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে ঘিরে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল; একই সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন নিয়েও তারা প্রতিবাদ জানিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও সংগঠনটির বক্তব্য উভয়ই রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিতর্কের অংশ হিসেবে এসেছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিষয়েও সংগঠনটির প্রতিবাদের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের নতুন বিবৃতিটির কেন্দ্রীয় বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের উৎস, বই ও দলিলের সংরক্ষণ এবং সেগুলো পাঠ ও গবেষণার স্বাধীনতা।

জ্ঞানচর্চা বনাম ইতিহাসের রাজনৈতিক ব্যবহার

বাংলাদেশে ইতিহাসের ব্যাখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কোন ঘটনা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, কোন ব্যক্তির ভূমিকা কতটা গুরুত্ব পাবে কিংবা পাঠ্য ও জনপরিসরে ইতিহাসের কোন অধ্যায় কতটা স্থান পাবে—এসব প্রশ্নে ভিন্নমত থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য এবং ঐতিহাসিক উৎসে প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন এক বিষয় নয়।

৩০ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ মূলত দ্বিতীয় বিষয়টিকেই সামনে এনেছে—তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মত ও ব্যাখ্যার পার্থক্য থাকলেও গবেষণা ও পাঠের জন্য উৎসের প্রাপ্যতা সীমিত করা উচিত নয়। অর্থাৎ ইতিহাসের কোনো ব্যাখ্যাকে প্রশ্ন করার অধিকার যেমন থাকা প্রয়োজন, তেমনি সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজনীয় বই, নথি ও প্রামাণ্য উৎসে প্রবেশের সুযোগও থাকা প্রয়োজন—বিবৃতিটির সারবত্তা এই জায়গাতেই।

সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বাংলা ও ইংরেজি—উভয় সংস্করণের বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম-এর স্বাক্ষর রয়েছে। বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তির সংগ্রামসম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও নথির অবাধ প্রকাশ, পাঠ, সংরক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক উপাদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজেশন করে গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ

প্রতিবাদ বিবৃতিটির মূল আবেদন কোনো একটি বই বা একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর বিস্তৃত বক্তব্য হলো—বাংলাদেশের ইতিহাসের উৎসগুলো সংরক্ষিত, অনুসন্ধানযোগ্য এবং গবেষণার জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার। তবে বিবৃতিতে যে ‘প্রতিবন্ধকতা’র অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট ঘটনা, প্রতিষ্ঠান বা সিদ্ধান্তের বিবরণ দেওয়া হয়নি। ফলে সেই অভিযোগের প্রকৃতি ও মাত্রা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিবৃতিতে উত্থাপিত আর্কাইভ সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন, গবেষকের প্রবেশাধিকার এবং প্রাথমিক উৎসভিত্তিক ইতিহাসচর্চা—এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার পরিসরে আরও বিস্তৃত আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে; কিন্তু ইতিহাসের দলিল হারিয়ে গেলে সেই বিতর্কের প্রমাণভিত্তিক ভিত্তিই সংকুচিত হয়ে যায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বই ও নথি সংরক্ষণ, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রশ্নটি রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি একটি জ্ঞানব্যবস্থাপনা ও গবেষণা-অবকাঠামোর প্রশ্নও।

#বাংলাদেশেরইতিহাস #মুক্তিযুদ্ধ #ইতিহাসচর্চা #মুক্তবুদ্ধি #একাডেমিকস্বাধীনতা #বঙ্গবন্ধু #অসমাপ্তআত্মজীবনী #কারাগারেররোজনামচা #ঐতিহাসিকদলিল #প্রগতিশীলশিক্ষকসমাজ