অধিকারপত্র ডটকম শিক্ষা ডেস্ক :
চবি, প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি ১১ দিনে গড়িয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাকে পুনরায় চুয়েটের উপাচার্য পদে বহাল করতে হবে।
আন্দোলনকারীরা জানান, শাটডাউন কর্মসূচির পাশাপাশি গত কয়েক দিন ধরে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন, প্রশাসনিক ভবনে তালা, অবস্থান কর্মসূচি এবং বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
৫৬ দিনের দায়িত্বের পর অপসারণ
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ৫৬ দিন পর তাকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই দিন রাত থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।
নানা কর্মসূচিতে প্রতিবাদ
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, মুখোশ মিছিল এবং চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষকদেরও সংহতি
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ। তারাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার উপাচার্য ভবনের সামনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একই দিনে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী কনসার্ট ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন।
কার্যত বন্ধ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম
দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও শাটডাউনের কারণে চুয়েটের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
