ত্বকের প্রাকৃতিক ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বুঝবেন যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
ত্বক শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি শরীরের বাইরের পরিবেশ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ত্বকের বাইরের স্তরে থাকা প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা বা স্কিন ব্যারিয়ার শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ধুলাবালি, জীবাণু ও বিভিন্ন বিরক্তিকর উপাদান থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বকে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।
ত্বকের প্রাকৃতিক ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ
১. ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে গেলে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরও শুষ্কতা অনুভূত হতে পারে।
২. চুলকানি ও জ্বালাপোড়া
ত্বকে হালকা চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মুখ ধোয়ার পর কিংবা প্রসাধনী ব্যবহারের সময় জ্বালাপোড়া বাড়লে বিষয়টি খেয়াল করা প্রয়োজন।
৩. ত্বক লাল হয়ে যাওয়া
ত্বকের সুরক্ষাস্তর দুর্বল হলে ত্বকে লালচে ভাব বা প্রদাহ দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে এই সমস্যা বেশি স্পষ্ট হতে পারে।
৪. ত্বকে খসখসে ভাব ও চামড়া ওঠা
ত্বকের ওপরের স্তর থেকে ছোট ছোট আঁশের মতো চামড়া উঠতে পারে। ত্বক টানটান লাগা কিংবা স্বাভাবিক কোমলতা হারানোও এর লক্ষণ হতে পারে।
৫. প্রসাধনী ব্যবহারে অস্বস্তি
আগে যে ফেসওয়াশ, ক্রিম বা সিরাম ব্যবহার করলে সমস্যা হতো না, সেগুলো ব্যবহারের পর হঠাৎ জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তবে এমন প্রতিক্রিয়ার অন্য কারণও থাকতে পারে।
৬. ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা বেড়ে যাওয়া
ত্বকের সুরক্ষাস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রদাহ ও অস্বস্তি বাড়তে পারে। তবে ব্রণ হলেই যে স্কিন ব্যারিয়ার নষ্ট হয়েছে, তা নয়।
কেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বকের সুরক্ষাস্তর?
অতিরিক্ত শক্তিশালী ক্লিনজার ব্যবহার, বারবার মুখ ধোয়া, অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন, স্ক্রাবের অতিরিক্ত ব্যবহার, রেটিনয়েড বা অ্যাসিডজাতীয় উপাদান ভুলভাবে প্রয়োগ এবং আবহাওয়ার শুষ্কতা ত্বকের সুরক্ষাস্তরকে দুর্বল করতে পারে।
ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ফিরিয়ে আনতে করণীয়
- মৃদু ও সুগন্ধিবিহীন ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
- ত্বক ধোয়ার পর উপযোগী ময়েশ্চারাইজার লাগান।
- কিছুদিন স্ক্রাব, পিলিং ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এমন সক্রিয় উপাদানের ব্যবহার কমিয়ে দিন।
- প্রতিদিন ত্বকের উপযোগী সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- নতুন প্রসাধনী একসঙ্গে অনেকগুলো ব্যবহার না করে ধীরে ধীরে পরিচিত করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ত্বকে তীব্র ব্যথা, ফোলা, ফাটল, ক্ষত, পানি পড়া বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও সমস্যা না কমলে কিংবা বারবার ফিরে এলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।
মনে রাখবেন: ত্বকের সুরক্ষাস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ অন্য ত্বকের রোগের সঙ্গেও মিলে যেতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
