হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম ভাঙা জাহাজে প্রতি রাতে হামলার দাবি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে প্রতি রাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাহিনী ছোট জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে এবং সেগুলোকে প্রণালি অতিক্রম করতে বাধা দিচ্ছে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং কিছু সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র এর জবাব দিচ্ছে না।
তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব ঘটনার সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
জাহাজ চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে প্রণালিটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে।
রয়টার্সের ৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারে অন্তত ১২টি হামলা, হামলার চেষ্টা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর কোনো এক সপ্তাহে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ঘটনা বলে সূত্রগুলো উল্লেখ করে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী-নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, প্রণালিতে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর উপস্থিতি জানান দেওয়া, জাহাজের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
অননুমোদিত নৌপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি
রয়টার্সের ৭ অক্টোবরের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ইরানের বিবেচনায় অবৈধ নৌপথগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ওমানের উপকূলঘেঁষা একটি বিকল্প পথের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং দেশটির দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সামরিক তৎপরতা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
সূত্র: দ্য ক্রেডল, রয়টার্স
