odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 20th October 2026, ২০th October ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব; ধর্মীয় অধিকার, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ

সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী: রুহুল কবির রিজভী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৯ October ২০২৬ ১৯:৫০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৯ October ২০২৬ ১৯:৫০

ঢাবি  প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

সমাজের অসত্য দূর করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই শারদীয় দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে দর্শনার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুর্গাপূজা বারবার ফিরে আসে মায়ের আগমনের বার্তা নিয়ে। এই উৎসবের শিক্ষা কোনো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সব ধর্মের মানুষ ও সমগ্র মানবসমাজের জন্য প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে এবং সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করতে শেখায়। দুর্গাপূজার মতো উৎসবের আনন্দে অন্য ধর্মের মানুষও অংশ নেন। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও এই পারস্পরিক অংশগ্রহণের প্রতিফলন রয়েছে।

 ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য হলো—এক সম্প্রদায়ের উৎসবে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ। এই অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রিজভীর ভাষ্য, কেউ কেউ দেশের সম্প্রীতির ঐতিহ্য নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে পারে, তবে ধর্মপ্রাণ মানুষ সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

 পূজার ছুটি ও মন্দিরের বরাদ্দ নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুই দিনের ছুটির আবেদন করা হলেও সরকার তা বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে এবার তাঁরা মোট পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারছেন।

তিনি আরও জানান, আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রতিটি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতকে মাসিক সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

 ‘ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার, অধিকার সবার’

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, শত শত বছর ধরে দেশের মানুষ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে একসঙ্গে অংশ নিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তির নিজস্ব বিষয় হলেও প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই দায়িত্ব পালনে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে দুর্গাপূজা পরিদর্শনের সময় রিজভী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।