odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 25th October 2026, ২৫th October ২০২৬
তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসায় হামলা ও নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং আসবাবপত্র লুটের অভিযোগে মামলা করেছেন প্রধান আসামির ছেলে।

সাভারে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলা: বাদীর বিরুদ্ধে ৭৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে পাল্টা মামলা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৪ October ২০২৬ ২৩:৪৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৪ October ২০২৬ ২৩:৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

ঢাকার সাভারে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ মোট ৭৭ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারীর বড় ছেলে মো. উমায়ের বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার সকালে থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

৭৭ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পূর্বশত্রুতার জেরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আকরাইন এলাকায় অবস্থিত তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসায় হামলা চালানো হয়। এ সময় মাদরাসা থেকে নগদ ৪৭ লাখ টাকা, ২৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং সাত লাখ টাকার আসবাবপত্র লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 ‘বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা’—উমায়ের

মামলার বাদী মো. উমায়ের দাবি করেছেন, তাঁর বাবা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মূলত জায়গাজমি দখল এবং মাদরাসায় লুটপাটের উদ্দেশ্যে সেখানে হামলা চালানো হয়েছিল।

তবে তাঁর এসব বক্তব্য অভিযোগ ও দাবি হিসেবে বিবেচ্য। ধর্ষণের অভিযোগ কিংবা পাল্টা মামলায় উত্থাপিত লুটপাটের অভিযোগ—কোনোটিরই চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের সিদ্ধান্তের আগে প্রতিষ্ঠিত বলে ধরে নেওয়া যায় না।

 ধর্ষণের অভিযোগে কী ঘটেছিল?

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার সন্ধ্যায় সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আকরাইন এলাকায় তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় যান।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাঁর স্ত্রীকে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

 পুলিশের বক্তব্য

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন ঢাকা পোস্টকে জানান, ধর্ষণ মামলার বাদীর নাম বাদ দিয়ে মামলা করার জন্য তাঁরা পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাদীর নামসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।