odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 26th October 2026, ২৬th October ২০২৬
শ্রীমঙ্গলের বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিমের রহস্যজনক মৃত্যুতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি পরিবারের।

ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৪ October ২০২৬ ২৩:৪৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৪ October ২০২৬ ২৩:৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিমের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার।

নিহত শাহ মনিরুজ্জামান জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জবাজার মাজদিহী এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি শ্রীমঙ্গলের জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদ নগর বরুণা মাদরাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছিলেন। তিনি চার কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন।

 শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গলের ভৈরব বাজার এলাকায় বাস করতেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি মাদরাসায় রয়েছেন।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন। ভিডিওর সূত্র ধরে উদ্ধারকারী যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁরা ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।

 সেতুর নিচে কীভাবে পৌঁছালেন, উঠছে প্রশ্ন

পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁকে কোনো চেতনানাশক পদার্থ খাইয়ে বা স্প্রে করে অচেতন করে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে যেতে পারে। তবে তাঁকে কীভাবে সেখানে নেওয়া হয়েছিল, কী কারণে তিনি অচেতন হয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর শরীরে দৃশ্যমান রক্তাক্ত আঘাত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে শুধু দৃশ্যমান আঘাত না থাকাকে চেতনানাশক প্রয়োগের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা ও তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।

 হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

স্থানীয় কয়েকজন যুবক সেতুর নিচে অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাওলানা জসিমকে দেখতে পেয়ে ভৈরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ স্বজনেরা ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন।

নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার জানান, শুক্রবার থেকে তাঁর চাচা নিখোঁজ ছিলেন। পরে ফেসবুকে ভিডিও দেখে তাঁরা ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় গাড়ির মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

 সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতু এলাকায় মাওলানা জসিম কীভাবে পৌঁছালেন, তিনি কীভাবে অচেতন হলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তাঁর স্বজন ও পরিচিতজনেরা।

তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত কেউ থাকলে তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা বা চেতনানাশক প্রয়োগের অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

 

 

 শুক্রবার থেকে নিখোঁজ, সেতুর নিচে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার—মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু

 : #মৌলভীবাজার #শ্রীমঙ্গল #ভৈরব #মাদরাসাশিক্ষক #রহস্যজনকমৃত্যু #অধিকারপত্রডটকম