আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দরসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। *দ্য জেরুজালেম পোস্ট*–এর ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে *দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*–এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সতর্কবার্তা প্রকাশ্যে এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেও দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা, প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইন, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তেহরানের বার্তা হলো, নতুন করে হামলা হলে আগের তুলনায় আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। তবে এসব হুমকির বাস্তবায়ন এবং সম্ভাব্য হামলার মাত্রা এখনো নিশ্চিত নয়।
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দাবিও উঠেছে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ-সালেহ জোকার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্রসহ প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান সরকারের বিরোধী সংবাদমাধ্যম *ইরান ইন্টারন্যাশনাল* তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
জোকার যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি—এনপিটি (Nuclear Non-Proliferation Treaty)—এর সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা স্থগিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই বক্তব্যকে ইরানের আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একজন ইরানি কর্মকর্তার আহ্বান বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকে প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে তেহরান
*দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*–এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের কাছে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে এবং দেশটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুনরায় চালু করেছে। তবে ইরানের বর্তমান মজুতের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী অবরোধে ইরানের অস্ত্রভান্ডার ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান সম্ভাব্য নতুন হামলা ঠেকাতে প্রতিপক্ষের ওপর বড় ধরনের ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিনা তৌসি বলেন, তেহরানে এখন প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত করার জন্য দ্রুত, ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার প্রয়োজনীয়তার ধারণা শক্তিশালী হয়েছে।
তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ সাঈদ গোলকার *দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*–কে বলেন, ইরান সব হুমকি বাস্তবায়ন করতে গেলে অতিরিক্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশটিকে সীমিত হয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফারজিন নাদিমি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি ও ইন্টারনেট অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম হতে পারে। তবে এ ধরনের হামলা হলে পাল্টা আঘাতে ইরানের নিজস্ব অবকাঠামোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আলোচনায় অচলাবস্থা, বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কয়েক মাস ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে নভেম্বরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে ইসরায়েলও। তবে ইরানে হামলার সম্ভাব্য সময় ও পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি, যোগাযোগ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
**সূত্র:** *The Jerusalem Post*, *The Wall Street Journal*, *Iran International*
পাকিস্তান সৌদি আরব কাতারের মধ্যস্থতা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা হরমুজ প্রণালি কাতার-ইরান সম্পর্ক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ইরানের পাল্টা হামলার হুমকি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সংবাদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র অধিকার পত্র
