জেরুজালেম থেকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম :
ইসরায়েলের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এগিয়ে থেকেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো পক্ষ। ফলে দেশটির নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত *দ্য জেরুজালেম পোস্ট*–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রকাশিত হিসাবের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পাওয়ার অবস্থানে ছিল। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য সাধারণত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ফলে দুই প্রধান জোটের কেউই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
রেকর্ড আসনে আরব দল, বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্ব
নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন বৃদ্ধি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—এই দুই দল মিলিয়ে ১৯টি আসন পাওয়ার অবস্থানে ছিল। এটি দেশটির পার্লামেন্টে তাদের সম্মিলিত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রেকর্ড।
এই ফলাফল সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বিরোধী জোট তাদের সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হতে পারে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলেই যে সরকার গঠন নিশ্চিত হবে, তা নয়; বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিরোধী শিবিরে মতপার্থক্য
ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিকদের মধ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন বা তাদের সমর্থন নিয়ে একমত হওয়া যায়নি। ইয়াইর গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছেন।
জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনও নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ ধরনের সমর্থনের শর্ত, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং বিরোধী জোটের ঐক্য—সবকিছুই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।
সামনে কী হতে পারে?
ভোট গণনার পর পাওয়া আসনসংখ্যা চূড়ান্ত না হওয়ায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ভোট, যেগুলো পৃথক খামে জমা দেওয়া হয়—যেমন সেনাসদস্য ও নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটারদের ভোট—গণনা শেষ হলে আসনবণ্টনে পরিবর্তন আসতে পারে।
এ অবস্থায় সামনে কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে: নেতানিয়াহুর জোট নতুন শরিক খুঁজে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে; বিরোধী জোট আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে পারে; অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে কোনো সম্ভাবনাকেই এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত ফলাফল এবং দলগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতার ওপরই নির্ভর করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ।
মূল কথা: নির্বাচনে আসনের হিসাবে এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর সামনে সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের জন্যও আরব দলগুলোর সমর্থনকে কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতায় রূপ দেওয়া সহজ হবে না। ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার নির্ধারণে তাই ভোটের ফলের পাশাপাশি জোট রাজনীতিই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
#IsraelElection2026
নেসেট নির্বাচন আরব রাজনৈতিক দল রা’আম পার্টি ইসরায়েল নির্বাচনের ফলাফল আরব রাজনৈতিক দল নেসেট নির্বাচন ইসরায়েল পার্লামেন্ট রা’আম পার্টি জয়েন্ট লিস্ট ইসরায়েলের সরকার গঠন গাদি আইজেনকোট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েল নির্বাচন ২০২৬ Israel election results 2026 ইসরায়েল পার্লামেন্ট ইসরায়েল সরকার গঠন রা’আম জয়েন্ট লিস্ট আরব দল ১৯ আসন নেতানিয়াহু ৫৩ আসন ইসরায়েল নির্বাচন ২০২৬
