odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 29th October 2026, ২৯th October ২০২৬
নেতানিয়াহুর জোট ৫৩, আইজেনকোটের বিরোধী শিবির ৪৮ আসনে—আরব দলগুলোর ১৯ আসন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

ইসরায়েলে সরকার গঠনের চার পথ: আরব দল, ঐক্য সরকার নাকি ফের নির্বাচন?

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৮ October ২০২৬ ২১:৪৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৮ October ২০২৬ ২১:৪৯

অধিকারপত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স।

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবির—কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনে চারটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং আইজেনকোটের বিরোধী শিবির ৪৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আরব-নেতৃত্বাধীন দুটি দল—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—মিলিয়ে ১৯টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলোর মধ্যে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

 ১. আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের চেষ্টা

আইজেনকোটের বিরোধী শিবির আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে রা’আম সরাসরি সরকারে যোগ দিতে পারে, আর জয়েন্ট লিস্ট বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা *দ্য টেলিগ্রাফ* জানিয়েছে।

রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাসের দল সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্টের অবস্থান বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার দিকে ঝুঁকে আছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এ ধরনের সরকার টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে। গাজা, পশ্চিম তীর, নিরাপত্তা ও জাতীয় পরিচয়ের মতো বিষয়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন দলের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা আগে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

 ২. নেতানিয়াহু ও বিরোধীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার

দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো জাতীয় ঐক্যের সরকার। এ ব্যবস্থায় নেতানিয়াহু এবং তাঁর বিরোধী শিবিরের কিছু দল একই সরকারে যোগ দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এই বিকল্পটি উঠে এসেছে। তবে এর জন্য নির্বাচনের আগে দেওয়া কিছু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে হতে পারে সংশ্লিষ্ট নেতাদের।

আইজেনকোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর বর্তমান জোটের উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দলের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নেতানিয়াহুকে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতায় উৎসাহিত করতে পারেন বলে প্রতিবেদনে সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ ধরনের সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য নেই।

 ৩. বিরোধী শিবিরের ডানপন্থীদের নিয়ে নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা

তৃতীয় পথ হলো আইজেনকোটের জোটের ডানপন্থী দলগুলোর কয়েকটিকে নিজের পক্ষে টেনে নেওয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ডানপন্থী নেতা আভিগদর লিবারম্যান এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন।

দুই নেতারই নেতানিয়াহুর সঙ্গে অতীতে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। নিরাপত্তা ও ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের অবস্থানের সঙ্গে নেতানিয়াহুর অবস্থানের কিছু মিল রয়েছে।

তবে নির্বাচনী প্রচারে তাঁরা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য উগ্রপন্থীদের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগও তুলেছিলেন।

তাই তাঁদের কেউ নেতানিয়াহুর সরকারে যোগ দেবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এমন সমঝোতা হলে সামরিক দায়িত্ব পালন থেকে অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের অব্যাহতি দেওয়ার মতো বিতর্কিত বিষয়েও নতুন দর-কষাকষি হতে পারে।

৪. নতুন নির্বাচন

সরকার গঠনের আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে আবার নির্বাচন হতে পারে। তবে এতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে এবং ততদিন নেতানিয়াহুর সরকার তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করতে পারে।

নতুন নির্বাচন হলে ভোটারদের মধ্যে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে গেলে আসনবণ্টনে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইসরায়েল অতীতেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে বারবার নির্বাচনে গেছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশটিতে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আইজেনকোট নির্বাচনের রাতে আবার ভোট আয়োজনের বিপক্ষে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, উচ্চ ভোটার উপস্থিতির পর আরেকটি নির্বাচন আয়োজন করা রাজনৈতিকভাবে ভুল হবে।

এখন কী হবে?

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়ার পর দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করবেন। কেবল সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাই যে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাবেন, তা নিশ্চিত নয়; কে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন জোগাড় করতে পারবেন, সেটিও বিবেচ্য।

সরকার গঠনের জন্য মনোনীত প্রার্থীকে প্রথমে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়; প্রয়োজন হলে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। আলোচনা ব্যর্থ হলে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। 

এ মুহূর্তে আরব দলগুলোর সমর্থন, জাতীয় ঐক্যের সরকার এবং নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা—সব কটি পথই আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলগুলোর সমঝোতা, পারস্পরিক রাজনৈতিক শর্ত এবং নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করার ওপর।

সূত্র: The Telegraph, The Times of Israel, The Jerusalem Post, Associated Press।

#IsraelElection2026 #Netanyahu #GadiEisenkot #IsraelPolitics #MiddleEast #অধিকারপত্রডটকম