নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতি এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বড় সাফল্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা এই দলগুলো এবার সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে।
২৯ অক্টোবর প্রকাশিত *দ্য নিউইয়র্ক টাইমস*-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব দলগুলোর এই অপ্রত্যাশিত সাফল্য ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অবস্থানকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তাদের ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের কারণে এই জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
পার্লামেন্টে আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্য
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—মিলিয়ে ১৯টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্টের আসন ১১টি এবং রা’আমের আসন ৮টি।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, আগের পার্লামেন্টে এই দুই দলের মোট আসন ছিল ১০টি। এবার তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
### আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ
নির্বাচনে আরব নাগরিকদের ভোটদানের হার ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের আগে ও প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৮০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়।
ইসরায়েলের আরব নাগরিকরা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তাদের বড় অংশের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং আরব দলগুলোর আসন বৃদ্ধি নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।
### সরকার গঠনে আরব দলগুলো কি নির্ধারক হবে?
সংখ্যার হিসাবে আরব দলগুলোর ১৯টি আসন সরকার গঠনের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিরোধী জোটের ৪৮ আসনের সঙ্গে আরব দলগুলোর আসন যুক্ত হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করা সম্ভব।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা এতটা সহজ নয়। গাদি আইজেনকটসহ বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট গঠনের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন। নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকেও আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা রয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
### ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা
নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে, আরব নাগরিকদের ভোট শুধু প্রতীকী অংশগ্রহণ নয়; দেশটির ক্ষমতার সমীকরণেও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ১৯টি আসন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে আরব দলগুলো নিশ্চিতভাবেই সরকারে অংশ নেবে। জোট গঠনের ক্ষেত্রে অন্য দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ও পারস্পরিক বিরোধ বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন ইসরায়েলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বকে উপেক্ষা করে সরকার গঠনের হিসাব করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেতানিয়াহু-আইজেনকট কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠ নন, ইসরায়েলের ক্ষমতার খেলায় এখন আরব দলগুলো!
**SEO কীওয়ার্ড:** ইসরায়েল নির্বাচন ২০২৬, ইসরায়েলের আরব ভোটার, আরব দল ১৯ আসন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, গাদি আইজেনকট, জয়েন্ট লিস্ট, রা’আম, ইসরায়েল সরকার গঠন, নেসেট নির্বাচন।
**হ্যাশট্যাগ:** #ইসরায়েলনির্বাচন #আরবদল #নেতানিয়াহু #গাদিআইজেনকট #ইসরায়েলরাজনীতি #মধ্যপ্রাচ্য #Odhikarpatra
সূত্র: The New York Times (২৯ অক্টোবর ২০২৬), Al Jazeera (২৯ অক্টোবর ২০২৬), The Times of Israel (চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল)।
