odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 6th November 2026, ৬th November ২০২৬
প্রতিপক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারকৌশল নিজেদের মতো করে কাজে লাগায় লুলার সমর্থকেরা। সংসদ সদস্য আন্দ্রে জানোনেসের নেতৃত্বে ‘লুলার আর্মি’ নামে ডিজিটাল প্রচারণায় যুক্ত হন লাখো মানুষ।

ডানপন্থীদের ডিজিটাল কৌশলেই বাজিমাত বামপন্থীদের, ব্রাজিলে লুলার জয়ে হোয়াটসঅ্যাপের বড় ভূমিকা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ November ২০২৬ ০৪:১০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ November ২০২৬ ০৪:১০

অধিকারপত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স:

মূল সংবাদ :

ব্রাজিলের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচলিত সমীকরণ বদলে দিয়েছে বামপন্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে ডানপন্থীদের রাজনৈতিক প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত হোয়াটসঅ্যাপকেই এবার কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছেন দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ২ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে লুলার সমর্থকেরা সমন্বিত ডিজিটাল প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা এবং জাতীয় প্রতীকগুলোর রাজনৈতিক পুনর্দখলের কৌশল গ্রহণ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ লুলার নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।

২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে জয় পান লুলা। এর আগে ৪ অক্টোবর প্রথম দফার ভোটে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি।

‘লুলার আর্মি’: তিন সপ্তাহে ৫০ হাজার থেকে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অনুসারী

কংগ্রেস সদস্য আন্দ্রে জানোনেসের নেতৃত্বে ‘লুলার আর্মি’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল কার্যত ভার্চুয়াল নির্বাচনী সদর দপ্তরে পরিণত হয়।

প্রথম দফার নির্বাচনের আগে চ্যানেলটির অনুসারী ছিল প্রায় ৫০ হাজার। কিন্তু লুলার পরাজয়ের পর মাত্র তিন সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছে যায়।

চ্যানেলটির মাধ্যমে সমর্থকদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু কাজ দেওয়া হতো। এর মধ্যে ছিল—

* সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ প্রচার।

* ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভিডিও শেয়ার।

* লাইভ অনুষ্ঠানে মন্তব্য ও পোস্টে লাইক দেওয়া।

* লুলার সমর্থনে ‘L’ অঙ্গভঙ্গির ছবি প্রকাশ।

* নতুন সমর্থকদের প্রচারণায় যুক্ত করা।

* প্রতিপক্ষের পোস্টে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য না করে তাদের প্রচারের বিস্তার সীমিত রাখার চেষ্টা।

এমনকি প্রতিপক্ষ ফ্লাভিও বলসোনারোর টেলিভিশন সাক্ষাৎকার চলাকালে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বানও দেওয়া হয়েছিল।

প্রচারণায় সমন্বয়, তবে উঠেছে অপতথ্যের প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ গবেষক ভিক্টর চাগাসের মতে, জানোনেস ডানপন্থীদের ব্যবহৃত প্রচারণার কৌশলই কাজে লাগিয়েছেন। আবেগনির্ভর বার্তা, আক্রমণাত্মক ভাষা এবং কখনো সন্দেহজনক উৎসের কনটেন্টও এই প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রচারণার সময় ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদোর একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তাঁকে লুলার নির্বাচনী প্রতীক ১৩-সংবলিত জার্সি পরে ‘L’ চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। তবে ব্রাজিলের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান আগেন্সিয়া লুপা জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবিটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। রোনালদোর প্রতিনিধিরাও জানান, তাঁর অনুমতি ছাড়াই ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে।

১১ অক্টোবর বলসোনারোর নির্বাচনী শিবিরের অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।

### ডিজিটাল প্রচারণাই কি লুলার জয়ের একমাত্র কারণ?

বিশ্লেষকেরা বলছেন, লুলার জয় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ফল নয়। ভোটার উপস্থিতি, প্রথম দফায় বাদ পড়া প্রার্থীদের ভোটের পুনর্বণ্টন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটের সমীকরণ পরিবর্তনও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইপিএসই গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী লিওনার্দো ম্যাগালহায়েস ফিরমিনোর মতে, জানোনেসের ডিজিটাল সংগঠিত প্রচারণা লুলার প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, এই প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ৪৮ বছর বয়সী ভেরিদিয়ানা কুনহা জানান, নির্বাচনের আগে তাঁর এক বন্ধু ভোট না দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু প্রচারণার মাধ্যমে তাঁকে ভোটকেন্দ্রে যেতে এবং লুলাকে ভোট দিতে রাজি করাতে পেরেছিলেন তিনি।

কুনহার ভাষায়, তিনি অন্তত একজন ভোটারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পেরেছেন।

সিএনএনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ব্রাজিলের এই নির্বাচন দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত প্রচারণা শুধু রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানোর মাধ্যম নয়; সমর্থকদের সক্রিয় করা এবং তাঁদের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

সূত্র: CNN, ২ নভেম্বর ২০২৬; KVIA +2

অধিকার পত্র ডটকমের বিশেষ বিশ্লেষণ

ব্রাজিলের নির্বাচন থেকে ডিজিটাল রাজনীতির তিনটি শিক্ষা

1\. শুধু জনপ্রিয় নেতার বক্তব্য নয়, সমর্থকদেরও প্রচারণার সক্রিয় অংশীদার করতে হয়।

2\. কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করে লাখো মানুষের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

3\. ডিজিটাল প্রচারণার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। ভুয়া ছবি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও আক্রমণাত্মক প্রচারণা রাজনৈতিক বিতর্কের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ: ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আধুনিক নির্বাচনে মাঠের প্রচারণার পাশাপাশি ডিজিটাল সংগঠনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো নির্বাচনের ফলকে শুধু একটি প্রচারণাকৌশলের সাফল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।