odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 5th November 2026, ৫th November ২০২৬

মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ November ২০২৬ ২১:৩৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ November ২০২৬ ২১:৩৩

নিচে অধিকার পত্র ডটকমের ফরম্যাটে, তথ্যগুলো নতুনভাবে সাজিয়ে প্রকাশযোগ্য নিউজটি দেওয়া হলো।

মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

অধিকার হাইলাইটস নিউজ: আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
মোংলা, ৫ নভেম্বর ২০২৬: মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সকালে মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি বন্দরপ্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণের বড় সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।
আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ করার ওপর নির্ভর করবে না। বন্দরের সেবার মান কতটা বাড়ল, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত রাখা গেল—এসব বিষয়ও প্রকল্পের সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জাহাজের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
মোংলা বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা এবং জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত সুবিধা নিশ্চিত করে বন্দরটিকে ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুলনা ও আশপাশের অঞ্চলে একসময় যে শিল্পকারখানাগুলো ছিল, সেগুলোর হারানো শিল্পঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।
অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য দেন।
এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অধিকারপত্র ডেস্ক রিপোর্ট :
Meta Title: মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী
Meta Description: মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিস্তারিত পড়ুন অধিকার পত্র ডটকম নিউজ লিংক কমেন্টে
SEO Keywords: মোংলা বন্দর, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থনৈতিক হাব
হ্যাশট্যাগ: #মোংলা_বন্দর #তারেক_রহমান #বাংলাদেশ #অর্থনীতি