নিচে অধিকার পত্র ডটকমের ফরম্যাটে, দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুদ্ধ ও প্রকাশযোগ্যভাবে নিউজটি সাজানো হলো।
নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের
অধিকার হাইলাইটস নিউজ: শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে নারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর মতে, নারীর প্রকৃত অগ্রগতি শুধু নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে কতজন নারী পৌঁছেছেন, তা দিয়ে নয়; বরং কত বেশি নারী সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৬: নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ওম্যান লিডারশিপ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর অংশ হিসেবে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নারীর অগ্রগতি শুধু কতজন নারী শীর্ষ পদে পৌঁছেছেন, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং আরও কত নারী তাদের অনুসরণ করার সুযোগ পাচ্ছেন, বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের নারীদের জন্য সুযোগ কতটা উন্মুক্ত হচ্ছে এবং কর্মক্ষেত্র ও সমাজে তাদের নেতৃত্ব কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে—এসবের ওপর প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বিপুলসংখ্যক নারী এখনো অর্থনীতির মূলধারায় পর্যাপ্তভাবে যুক্ত হতে পারছেন না। বাল্যবিয়ে, শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি নারীদের সম্ভাবনা বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ।
শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ব্যানবেইসের ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ ছাত্রী ঝরে পড়ে। উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের হার ২০ দশমিক ৮ শতাংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুবাইদা রহমান বলেন, বিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা এবং সেখান থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের জন্য ধারাবাহিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। নারীদের সাক্ষরতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন করা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগও দিতে হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন।
দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা, সহমর্মিতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হয়।
নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন নারীর আয়, সঞ্চয় ও নিজস্ব আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা শুধু তার ব্যক্তিগত সুযোগ বাড়ায় না, পরিবারের সামগ্রিক সক্ষমতাও শক্তিশালী করে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা শুধু আয়ের বিষয় নয়; নিজের ভবিষ্যৎ নিজে গড়ে তোলার সক্ষমতাও এর অংশ।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান জানান, প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি নারী ও শিশুর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নারীদের কর্মজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে দেশজুড়ে ডে-কেয়ার বা দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, পারিবারিক দায়িত্ব কোনো নারীর ক্যারিয়ার ও পেশাগত অগ্রগতির পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। কর্মক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন এবং দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় কাজে ফেরার সুযোগও নারীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।
প্রযুক্তির পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল সেবা ও নতুন প্রযুক্তি কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনের অর্থনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, নারীর অগ্রগতি নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মেয়েদের বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জুবাইদা রহমান বলেন, নারীদের অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি তাদের পথকে অহেতুক কঠিন করে তোলা প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগে, সুযোগকে নেতৃত্বে এবং নেতৃত্বকে বাংলাদেশের জন্য টেকসই প্রভাবে রূপান্তর করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। প্যানেল স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
প্যানেলে আরও ছিলেন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের অ্যাক্টিং ডেপুটি চিফ অব মিশন তৃশিতা মোওলা, শেভরন বাংলাদেশের সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং এবং ওরাকল বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা।
অধিকারপত্র ডেস্ক রিপোর্ট :
Meta Title: নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের
Meta Description: নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান। নারীর অগ্রগতি ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিস্তারিত পড়ুন অধিকার পত্র ডটকম নিউজ লিংক কমেন্টে
SEO Keywords: জুবাইদা রহমান, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর নেতৃত্ব, নারী কর্মসংস্থান
হ্যাশট্যাগ: #জুবাইদা_রহমান #নারীর_ক্ষমতায়ন #নারীর_নেতৃত্ব #বাংলাদেশ
