১১ বল ও ২ রান-এটুকুই লাগল ম্যাচ ঘুরে যেতে!
টপ অর্ডারের এনে দেওয়া ভিত্তিতে ঝড় তোলার অপেক্ষায় ছিলেন জিমি নিশাম, কলিন মানরোরা। কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান ভেস্তে দিলেন ওদের সব পরিকল্পনা। তাতেই ৪ উইকেটে ২২৪ থেকে স্কোরটা হয়ে গেল ৭ উইকেটে ২২৬। নিউজিল্যান্ডের স্কোর অনায়াসে তিন শ পেরোবে মনে হওয়া ম্যাচের রং বদলে লক্ষ্যটাকে ২৭১ রানে আটকে দিল বাংলাদেশ। পারবে বাংলাদেশ? প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে? উঠে যেতে র্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে?
এরই মধ্যে আফসোস হয়ে থাকল চার-চারটা ক্যাচ ফেলা। না হলে হয়ে আরও কমেই আটতে ফেলা যেত নিউজিল্যান্ডকে। তবে শুরুর ঝড়টা মাথায় রাখলে ৮ উইকেটে ২৭০ হাসিমুখেই মেনে নেবে বাংলাদেশ। দুবার ক্যাচ ফেলা টম ল্যাথাম শেষ পর্যন্ত ৮৪ রান করে আউট হয়েছেন। আর একবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া নিল ব্রুম আউট হয়েছেন ৬৩ রানে। এই দুজনের সৌজন্যে ১ উইকেটে ১৫৬ ছিল নিউজিল্যান্ডের স্কোর।
সেখান থেকেই ম্যাচ ফেরে বাংলাদেশ। শুধু ফেরা নয়, নিউজিল্যান্ডকে প্রায় ছিটকেই দিচ্ছিল ম্যাচ থেকে। কিন্তু অভিজ্ঞ রস টেলর এক দিকে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৬০ রানে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য আছে এই রান তাড়া করার।
এর আগে ৩০০ রানের বড় স্কোরের ভয় জাগাচ্ছিল নিউজিল্যান্ড। ৪০ ওভারের বেশ আগেই ২০০ ছোঁয়া দলটির লেট অর্ডারে যে সব বিগ হিটারদের আড্ডা! ৩ উইকেটে ২০৮ রান তুলে ভিত্তিটাও ভালো এনে দিয়েছিলেন ল্যাথাম-ব্রুমরা। পরিস্থিতিটা একটু সামাল দিলেন সাকিব। কোরি অ্যান্ডারসনকে মাহমুদউল্লাহর তালুবন্দী করে। সেটা ছিল ক্ষণিক স্বস্তি, তখনই যে নামলেন নিশাম। একটু পরেই নামবেন মানরো। ৪২তম ওভারের তৃতীয় বলে নিশামকে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে শুরু করলেন মাশরাফি। ৪৪তম ওভারের প্রথম বলে মানরোকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শেষটাও করলেন। মাঝখানে ৪৩তম মিচেল স্যান্টনারও বোল্ড হলেন সাকিবের বলে।
এর আগে কিউইদের জোড়া ধাক্কা দিয়েছেন নাসির। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৩ রান তোলা টম ল্যাথাম ও নিল ব্রুমকে আউট করেছেন নাসির হোসেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ল্যাথাম নাসিরের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৮৪ রান করেছেন। এ আউটে আসলে দায় মিটিয়েছেন নাসির। ম্যাচের তৃতীয় বলেই তো ফেরার কথা ল্যাথামের। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে সহজতম এক ক্যাচ তুলেছিলেন কিউই অধিনায়ক। কিন্তু স্কয়ার লেগে থাকা নাসির দুই হাতে বল ধরেও ফেলে দিলেন।
ল্যাথাম যখন অবশেষে আউট হয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন ১৬৭। এর আগে ১৫৬ রানে ফিরেছেন ৬৩ রান করা ব্রুম। তিনিও নাসিরের অফ স্পিনের শিকার। তবু নিউজিল্যান্ডের রান তোলার গতিতে বাধ দেওয়া যাচ্ছিল না। সাকিব-মাশরাফির যুগলবন্দী এরপরই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৭০/৮ (ল্যাথাম ৮৪, ব্রুম ৬৩, টেলর ৬০*, অ্যান্ডারসন ২৪; সাকিব ২/৪১, নাসির ২/৪৭, মাশরাফি ২/৫২, মোস্তাফিজ ১/৪৬, রুবেল ১/৫৬, মোসাদ্দেক ০/১৪)
