নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কারাবন্দি অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তিনি তার ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর নেপথ্যে জেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত আদালত-বান্ধব আইনজীবী সালমান সাফদার আদিয়ালা জেলে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইমরানের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক ছিল। এরপর থেকে তিনি ডান চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন। বারবার জেল কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে পিআইএমএস হাসপাতালের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ জানান, 'রাইট সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন' (চোখে রক্ত জমাট বাঁধা) জনিত কারণে তার রেটিনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তার ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট আছে।
সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশনা
প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি এবং বিচারপতি শহিদ বিলাল হাসানের বেঞ্চ এই রিপোর্ট পাওয়ার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদালত আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থানরত তার দুই ছেলে কাশিম ও সুলেমানের সঙ্গে ইমরানকে নিয়মিত ফোনালাপের সুযোগ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে আদালতের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
নিষ্ঠুর নির্জনতা ও মানসিক অবসাদ
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী এই নেতাকে দীর্ঘ ৯২২ দিন ধরে সলিটারি কনফাইনমেন্ট বা নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এর ফলে তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছেন। গত দুই বছরে তার দাঁতের সমস্যা থাকলেও কোনো ডেন্টিস্ট দেখানো হয়নি এবং নিয়মিত রক্ত পরীক্ষাও বন্ধ রাখা হয়েছে। ইমরান খানের ছেলে কাশিম খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে নৃশংসতা বলে অভিহিত করেছেন।
সরব বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গন
ইমরান খানের এই দুঃসংবাদে ভেঙে পড়েছেন তার সাবেক সতীর্থ ও বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটাররা। ওয়াসিম আকরাম: আমাদের অধিনায়কের এই অবস্থায় আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। রাজনীতি পাশে রেখে তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হোক।
ওয়াকার ইউনিস: যিনি দেশের জন্য গৌরব এনেছেন এবং ক্যানসার হাসপাতাল করেছেন, তাকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখা মেনে নেওয়া যায় না। শোয়েব আখতার ও শহিদ আফ্রিদি: তারা ইমরান খানের মৌলিক মানবাধিকার ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। এমনকি ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তোশাখানা ও অন্যান্য দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। এখন দেখার বিষয়, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হয় কি না।
-মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: