— সম্পাদকীয়
জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী জননেতা তারেক রহমানকে 'অধিকারপত্র'-এর পক্ষ হতে অভিনন্দন। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, এবং প্রবীণ-নবীন ও নারী নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।
আজ বাংলার আকাশে এক নতুন রবির উদয় ঘটিয়াছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করিয়া জাতীয় নির্বাচনের যে ফলাফল আমরা প্রত্যক্ষ করিলাম, তাহা কেবল একটি দলের বিজয় নহে, বরং তাহা আপামর জনসাধারণের রুদ্ধকণ্ঠের মুক্তি ও পরিবর্তনের অদম্য বাসনার বহিঃপ্রকাশ। এই মাহেন্দ্রক্ষণে, 'অধিকারপত্র'-এর পক্ষ হইতে আমরা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রনায়ক ও জননন্দিত নেতা জনাব তারেক রহমানকে জানাইতেছি আন্তরিক অভিনন্দন ও সশ্রদ্ধ অভিবাদন। হে নবীন কাণ্ডারি, এই বিজয় মুকুটের ন্যায় শিরোধার্য হইলেও ইহার ভার হিমালয় সদৃশ। আপনার স্কন্ধে আজ ন্যস্ত হইয়াছে এক বিধ্বস্ত জনপদকে পুনর্গঠন করিয়া একটি আদর্শ রাষ্ট্রে রূপান্তরের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।
একটি আদর্শ রাষ্ট্রের স্বপ্নকল্প
বাঙালি জাতি বহুকাল ধরিয়া একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখিয়াছে। আমাদের প্রত্যাশা, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন এক আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত হইবে, যেখানে শাসকের রক্তচক্ষু নয়, বরং আইনের শাসনই হইবে শেষ কথা। রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে মৌলিক মানবাধিকারের সুবাতাস বহিতে হইবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং রাজপথ হইতে সংবাদপত্রের পাতা—সর্বত্রই যেন নাগরিকের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত হয়। মনে রাখিতে হইবে, ভিন্নমত দমনের নাম গণতন্ত্র নহে, বরং ভিন্নমতের বৈচিত্র্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে লালন ও সম্মান প্রদর্শনই হইল একটি সুসভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের প্রধান লক্ষণ। আমরা আশা করি, আপনার সরকার অসহিষ্ণুতার প্রাচীর ভাঙ্গিয়া পরমতসহিষ্ণুতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করিবে।
সুশাসন ও দুর্নীতির বিনাশ
বিগত দিনগুলিতে এদেশের মানুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের যে করাল গ্রাস দেখিয়াছে, তাহা যেন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। জনমানুষের প্রত্যাশা, আপনার সরকারের অবস্থান দুর্নীতির বিরুদ্ধে হইবে আপসহীন ও দৃশ্যমান। কেবল বাকচাতুর্যে নহে, বরং কর্মক্ষেত্রে তাহার প্রতিফলন ঘটিতে হইবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রশাসনকে ঢালিয়া সাজাইতে হইবে, যাহাতে রাষ্ট্রের একটি পয়সাও অপচয় না হয়।
বৈষম্যহীন সমাজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন
একটি রাষ্ট্র তখনই সার্থক হয়, যখন তাহার ক্ষুদ্রতম নাগরিকটিও নিজেকে নিরাপদ বোধ করে। আমাদের স্বপ্ন—এই বাংলাদেশে আর কোন 'সংখ্যালঘু' বা 'সংখ্যাগুরু' শব্দবন্ধ থাকিবে না। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের একটাই পরিচয় হইবে—আমরা 'বাংলাদেশি'। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারে প্রতিটি নাগরিকের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করিতে হইবে।
নারীর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি। অন্দরে ও বাহিরে নারী যেন মাথা উঁচু করিয়া চলিতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া আমরা গণ্য করি। একইসঙ্গে, সমাজ হইতে অবহেলিত প্রতিবন্ধী মানুষ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করিতে হইবে। যাহারা মেহনতি মানুষ, যাহাদের ঘামে এই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, সেই খেটে খাওয়া মানুষের ক্ষমতায়নে সরকারকে বৈপ্লবিক উদ্যোগ লইতে হইবে।
পররাষ্ট্রনীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন
প্রতিবেশী দেশসমূহের সহিত সম্পর্কের উন্নয়ন ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করা আবশ্যক। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জাতীয় স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রাখিয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমরা কামনা করি। বাংলাদেশ যেন বিশ্বদরবারে এক মর্যাদাপূর্ণ ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রিসভা: মেধা ও ত্যাগের মেলবন্ধন
রাষ্ট্রনায়ক যত দক্ষই হউন না কেন, একটি যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মন্ত্রিপরিষদ ব্যতিরেকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব। আমরা প্রত্যাশা করি, আপনার মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে সৎ, শিক্ষিত ও নীতিবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে। যাহারা নিজেদের আখের গোছাইতে নহে, বরং দেশ ও দশের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করিবেন।
এই প্রসঙ্গে একটি কথা না বলিলেই নয়—বিগত দুর্দিনে যখন ঘোর অন্ধকার নামিয়া আসিয়াছিল, তখন যাহারা জীবনের ঝুঁকি লইয়া গণমাধ্যমে দলের ও জনগণের কথা বলিয়াছেন, তাহাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করিয়া, মন্ত্রিসভায় জোরালো নারী কণ্ঠস্বর থাকা একান্ত আবশ্যক। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে স্নাতকোত্তর ও এলএলবি সম্পন্নকারী এবং ২০১১ সালে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর পিএইচডি করা ড. নিলোফার চৌধুরী মনি-র ন্যায় নেত্রীবৃন্দ, যাহারা চরম দুঃসময়ে টেলিভিশনের পর্দায় ও জনসমক্ষে সাহসের সহিত জনমত গঠন করিয়াছেন, তাহাদের মেধা ও ত্যাগের স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয় কাজে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনের তারুণ্যের সংমিশ্রণে একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভাই পারে একটি 'সোনালী ভোর' উপহার দিতে।
চূড়ান্ত প্রত্যাশা
হে বিজয়ী জননেতা, আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে নিলোফার মনি-র ন্যায় অনেক যোগ্য কমিটমেন্টের অধিকারী মানুষ রয়েছেন। দূরনীতিবাজ ব্যবসায়ী অসৎ মানুষদের বাদ দিয়ে শিক্ষিত মার্জিত দক্ষ ও সৎ মানুষদের নিয়ে কেবিনেট গঠন হবে দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচায়ক। দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে এমুহূর্তে বিশেষ জরুরি । মনে রাখতে হবে, মর্নিং শোওজ দ্যা ডে।জনমানুষের মনে আজ হাজারো প্রত্যাশার প্রদীপ জ্বলিতেছে। সবাই চায় এক সুন্দর, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আপনার হাত ধরিয়া এই দেশ কলঙ্কমুক্ত হউক, ঘুচিয়া যাউক সকল হাহাকার। ইতিহাসের পাতায় আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকুক একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে, যিনি স্বপ্ন দেখাইয়াছেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করিয়াছেন।
আপনার অগ্রযাত্রা শুভ হউক। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হউক। সমঅধিকারের মানবিক বাংলাদেশ গঠিত হোক।
✍️ –অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)
#বাংলাদেশ #তারেক_রহমান #নতুন_বাংলাদেশ #সুশাসন #গণতন্ত্র #অধিকারপত্র #রাজনৈতিক_সংস্কার #নারী_ক্ষমতায়ন #মানবাধিকার #Editorial2024 #BangladeshPolitics

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: