odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 16th February 2026, ১৬th February ২০২৬
জেনেভায় দ্বিতীয় দফা আলোচনা সামনে রেখে তেহরান জানাল, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় দিতে পারে তারা

পারমাণবিক চুক্তিতে ছাড় দিতে প্রস্তুত ইরান, শর্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৬ February ২০২৬ ০০:৪০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৬ February ২০২৬ ০০:৪০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছাতে নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরানে বিবিসি-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত-রাভাঞ্চি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আন্তরিক হয় তবে ইরানও প্রয়োজনীয় আপস বা সমঝোতা করতে প্রস্তুত।

আলোচনার মূলবিন্দু: নিষেধাজ্ঞা বনাম ইউরেনিয়াম

রাভাঞ্চি স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনার সফলতার দায় এখন আমেরিকার ওপর। তিনি বলেন, বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তারা যে সত্যিই চুক্তি করতে চায়, সেটা তাদের প্রমাণ করতে হবে। তারা যদি আন্তরিক হয়, তবে আমরা দ্রুতই একটি সমাধানের পথে পৌঁছাতে পারব। ইরানের এই নমনীয়তার প্রধান নিদর্শন হিসেবে তিনি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত কমিয়ে ফেলার (dilute) প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সামরিক কাজে ব্যবহারের খুব কাছাকাছি পর্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়, যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ইরান এই মজুত কমাতে রাজি হলেও এর বিনিময়ে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।

আলোচনার টেবিলে যা আছে এবং যা নেই

মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনাকে সামনে রেখে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই কূটনীতিক:

জিরো এনরিচমেন্ট: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'শূন্য সমৃদ্ধকরণ' (zero enrichment) নীতির বিরোধিতা করে রাভাঞ্চি বলেন এখন আর আলোচনার বিষয় নয়। ইরানের মতে এনরিচমেন্ট তাদের অধিকার।

ব্যালেস্টিক মিসাইল: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো প্রকার আলোচনা করতে সাফ মানা করে দিয়েছে তেহরান। রাভাঞ্চি বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের রক্ষা করেছে, তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ত্যাগের প্রশ্নই আসে না।

ইউরেনিয়াম হস্তান্তর: ২০১৫ সালের চুক্তির মতো এবারও ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনা কোন দিকে যায় তা দেখার আগে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

উত্তপ্ত আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের শঙ্কা

সাক্ষাৎকারে রাভাঞ্চি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আরেকটি যুদ্ধ হবে সবার জন্য ভয়াবহ এবং ইরান যদি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে তবে তারা যথাযথ জবাব দেবে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ওমানের মধ্যস্থতায় চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া যুদ্ধের শঙ্কা দূর করবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। ওয়াশিংটন কেবল পরমাণু ইস্যু নয় বরং ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। জেনেভায় মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলে জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতি ইরানের কাছে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত দুই দেশ কোনো স্থায়ী ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে কি না তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

-মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: