odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 27th February 2026, ২৭th February ২০২৬

দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৬ February ২০২৬ ১৭:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ February ২০২৬ ১৭:৪৪

জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বইমেলা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার হয়ে উঠুক—এ আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের বিকল্প নেই। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার উৎসব নয়; এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ মেলা জাতিকে আরও বইপ্রেমী করে তুলবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূতিকাগার হিসেবে বইমেলা ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলা হয়, তবে বাংলাদেশের বইমেলা ভিন্ন। এটি মাতৃভাষার অধিকার আদায় ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারক। তিনি বলেন, প্রতি বছর মেলার আকার বাড়লেও গবেষণাধর্মী বইয়ের প্রকাশনা ও মানুষের পাঠাভ্যাস একই হারে বাড়ছে কি না—সে প্রশ্ন নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে।

বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র একটি উক্তি উল্লেখ করেন—“বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।” তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষে নতুন সংযোগ তৈরি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করছে। যদিও ইন্টারনেটেও বই পড়া যায়, তবে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের পর্দায় ডুবে থাকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, অমর একুশে বইমেলা শুধু উৎসব নয়; এটি নিয়মিত পাঠাভ্যাস তৈরির অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক—এটাই তার প্রত্যাশা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে পালিত একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

তারেক রহমান বলেন, বইমেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাবছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের উদ্যোগী ভূমিকার পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা দেবে বলে জানান তিনি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: