odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 2nd November 2026, ২nd November ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় প্রায় সাত বছর পর রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ: ৭ বছর পর রুবেলের যাবজ্জীবন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৬ September ২০২৬ ০১:৪১

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৬ September ২০২৬ ০১:৪১

অধিকারপত্র ডটকম,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় প্রায় সাত বছর পর রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তাকে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানা (২৫) ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী (বদ্বেশ্বরী) গ্রামের বাসিন্দা। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

মামলার এজাহার ও আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়ার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঢোলারহাট বাজারের তিন রাস্তার মোড়ের অটোচার্জার স্ট্যান্ডে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে রুবেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি অজ্ঞাত বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

পরদিন স্থানীয়দের চাপের মুখে রুবেল ওই ছাত্রীকে ইজিবাইকে করে তার বাড়ির সামনে রেখে চলে যান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই দিন ভুক্তভোগীর বাবা রুহিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

আদালতের রায়

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাজা ঘোষণা করেন।

বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বরাতে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে আরও ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাগো নিউজ আদালতের রায়ের ধারাভিত্তিক বিবরণে জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় অপহরণের জন্য ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ৯(১) ধারায় ধর্ষণের জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অর্থদণ্ড অনাদায়ে মোট আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন।

ফ্যাক্ট-চেক ফলাফল: ঘটনাটি ও আদালতের রায় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এবং আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সাজার ভাষাগত বর্ণনায় বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে; তাই প্রতিবেদনে আদালতের রায়ের ধারাভিত্তিক তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অধিকার পত্রের সম্পাদকীয় সতর্কতা

ভুক্তভোগী একজন স্কুলছাত্রী হওয়ায় তার নাম, পরিচয়, ছবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন কোনো তথ্য যা থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়—প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদটি আদালতের রায় ও মামলার নথিভিত্তিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুত করা হয়েছে।