odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 13th September 2026, ১৩th September ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবস্থার পাশে থাকা কয়েকটি পাম্প স্টেশনে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে একটি স্টেশনে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন দেখা গেছে

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন ব্যবস্থায় হামলা, পাম্প স্টেশনে আগুন

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১২ September ২০২৬ ২১:৩০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১২ September ২০২৬ ২১:৩০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন ব্যবস্থায় প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর কয়েকটি পাম্প স্টেশনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে CNN জানিয়েছে, হামলায় পাইপলাইনের পাশে থাকা পাম্প স্টেশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে এসব স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতেও হামলার পর আগুনের চিহ্ন দেখা গেছে। শুক্রবার তোলা একটি ছবিতে সৌদি আরবের আল মেসবাহ এলাকার কাছে একটি পাম্প স্টেশনে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। এর এক দিন আগে আল ধেকরা এলাকার আরেকটি পাম্প স্টেশনে ছোট আগুন থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

তবে হামলায় পাইপলাইনের মূল অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মেরামতের কাজ শেষ করতে কত সময় লাগবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

ইরাক থেকে ড্রোন হামলার দাবি

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাটি ইরাক থেকে আসা ড্রোনের মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে। তবে হামলার জন্য কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর ওপর এই হামলাকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির তেল সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তা রপ্তানির সক্ষমতা এখন আগের তুলনায় বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইরান-ঘনিষ্ঠ ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো অতীতেও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফলে এবারের হামলার পেছনেও একই ধরনের কোনো গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন পর্যন্ত হামলাকারী বা হামলার নির্দেশদাতা সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সৌদি তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বর্তমানে দেশটির তেল রপ্তানি ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব পারস্য উপসাগরীয় বন্দর থেকে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ তেল বিকল্প পথে রেড সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পাইপলাইন দিয়ে ইয়ানবু বন্দরের দিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে পাইপলাইন ও এর সঙ্গে যুক্ত পাম্প স্টেশনগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতি হলে সৌদি আরবের তেল পরিবহন ও রপ্তানি ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

এরই মধ্যে রেড সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরের পাশাপাশি রেড সাগরপথও সৌদি তেল রপ্তানির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্যাটেলাইটে একাধিক আগুনের চিহ্ন

স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের আশপাশে মোট নয়টি বড় আগুনের উৎস শনাক্ত করা হয়। তবে এর মধ্যে অন্তত ছয়টির অবস্থান এমন জায়গার সঙ্গে মিলে যায়, যেগুলো তেল ও গ্যাস ব্যবস্থায় জরুরি পরিস্থিতিতে জ্বালানি পোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত ফ্লেয়ার পিট হতে পারে।

অর্থাৎ স্যাটেলাইটে দেখা সবগুলো আগুনই যে হামলার কারণে হয়েছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে পাম্প স্টেশনে আগুন ও ক্ষয়ক্ষতির আলামত হামলার বিষয়ে তদন্তকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাম্প স্টেশনের ক্ষতি মেরামত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। কিন্তু পাইপলাইনের মূল কাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকলে মেরামতের কাজ অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ

সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলার খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। চলতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্নের আশঙ্কাই মূলত দামের এই ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ।

এর মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন অবকাঠামো হামলার মুখে পড়ায় বাজারে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। এদিকে ওপেককে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে গত মাসে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং তা ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

সৌদি সরকার, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco এবং মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হামলার প্রকৃত উৎস, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সৌদি তেল সরবরাহে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হতে পারে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

        



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: