সংবাদ প্রতিবেদন│ নিউজ ডেক্স —নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন অধ্যাপককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ; সংশ্লিষ্ট সব বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন, বিধি ও ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণের আহ্বান।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, অধ্যাপক আফরোজা শেলী, অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহার বিষয়ে সংগঠনটির অবস্থান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে বিশদ সংবাদ প্রতিবেদন এবং বিশেষ সংবাদ ধারাবাহিক।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ—যারা নিজেদের পরিচয় দেয় "বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অপ্রতিরোধ্য"—ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ঢাকা থেকে স্মারক নং BPUPTA/2026/61 অনুযায়ী ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের সিদ্ধান্তে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ এবং অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে সংগঠনটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
একই সঙ্গে, ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের শাস্তি প্রদান আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচারের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগঠনটির মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রচলিত আইন, বিধি, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সংগঠনটি আরও জানায়, গত ২০ মাসে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মতভিন্নতা ও বিভাজনের আবহে শিক্ষক সমাজের বিরুদ্ধে বহিষ্কার, সাময়িক বরখাস্ত, একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাস্তি, বয়কট এবং মবের চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শতশত শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শাস্তির প্রস্তাবসংবলিত তালিকা প্রকাশ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি "অশনিসংকেত" হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো প্রতিহিংসা বা ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্র হতে পারে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে মুক্তচিন্তা, বহুত্ববাদ, যুক্তিবাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতকে সহনশীলতার সঙ্গে ধারণ করার সংস্কৃতিতে। ভীতি, অনিরাপত্তা এবং শাস্তিনির্ভর সংস্কৃতি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে না বলেও সংগঠনটি মন্তব্য করেছে।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আইন, বিধি ও ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করে শিক্ষকদের সাংবিধানিক ও পেশাগত অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং একাডেমিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠনটি অসাংবিধানিক বলে বিবেচিত সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং দেশের শিক্ষাঙ্গনে ভয়মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জ্ঞানচর্চাবান্ধব পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া বিবৃতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
উত্থাপিত বিষয় থেকে সংবাদ ভাষ্য│সংবাদ ধারাবাহিক
বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যায়বিচার ও একাডেমিক স্বাধীনতা | বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা কি শাস্তিতে, নাকি ন্যায়ভিত্তিক শাসনে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বলে, একটি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা তার প্রশাসনিক কঠোরতায় নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক শাসন, মুক্তচিন্তা, গবেষণার স্বাধীনতা এবং মতের বহুত্বকে ধারণ করার সক্ষমতায় নির্মিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি পরিসর, যেখানে ভিন্নমতকে দমন নয়, যুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়; যেখানে শাস্তি নয়, প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা সৃষ্টি করে।
প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা অবশ্যই অপরিহার্য। তবে সেই শৃঙ্খলা তখনই গ্রহণযোগ্য ও টেকসই হয়, যখন তা আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যথায়, শাস্তির সংস্কৃতি ধীরে ধীরে ভয়ের সংস্কৃতিতে রূপ নিতে পারে, যা গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশকে দুর্বল করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনও কেবল প্রশাসনিক স্বাধীনতার নাম নয়; এটি একই সঙ্গে আইন, জবাবদিহিতা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচারের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষার অঙ্গীকার। সেই ভারসাম্যই একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে।
প্রতিবেদকের নোট:
এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ কর্তৃক কাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়ছে। এতে উত্থাপিত অভিযোগ, মতামত ও উদ্বেগসমূহ শিক্ষক সমিতির নিজস্ব অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়।
—বিশেষ প্রতিবেদক, অধিকারপত্র
#বাংলাদেশ_পাবলিক_বিশ্ববিদ্যালয়_প্রগতিশীল_শিক্ষক_সমাজ #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #ড_সাদেকা_হালিম #মো_আবদুল_মুহিত #আবু_সারা_শামসুর_রউফ #ড_মোহাম্মদ_বাহাউদ্দিন #ড_রফিক_শাহরিয়ার #আফরোজা_শেলী #ড_মো_শফিকুল_ইসলাম #কল্যাণাংশু_নাহা #একাডেমিক_স্বাধীনতা #বিশ্ববিদ্যালয়_স্বায়ত্তশাসন #আইনের_শাসন #উচ্চশিক্ষা #সংবাদ_ধারাবাহিক
ড_সাদেকা_হালিম ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: