কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো ১২৪ মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার
২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগার ভেঙে পালিয়েছিলেন ২০২৪ সালে
অধিকার সংযুক্ত নিউজ
কুষ্টিয়ার জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১২৪ মামলার আসামি মো. আনিছুর রহমানকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আনিছুর রহমান কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৬ সালে কুষ্টিয়ার আলাউদ্দিননগরে কার্যক্রম শুরু করেন আনিছুর রহমান। পরে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় শাখা খোলেন তিনি। এসব শাখায় গ্রাহকদের জমা করা অর্থ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে দ্বিগুণ করে ফেরত দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হতো।
একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা জমা হয় বলে অভিযোগ। ওই অর্থ দিয়ে আনিছুর রহমান দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন বলে পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
২০২৩ সালের শুরুতে মাঠকর্মী ও গ্রাহকেরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের জমা করা টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিতে থাকেন। পরে একই বছরের নভেম্বরে অফিসে তালা দিয়ে আনিছুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে প্রায় ১২৪টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তার সাজা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে বেশ কয়েকজন বন্দি পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে আনিছুর রহমানও ছিলেন বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হলো।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: