অধিকার ডেস্ক | ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইতালির রোমে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি ঘটনাটিকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সংসদে বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলার শামিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পার্কে হাঁটার সময় বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
হুমায়ুন কবির জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি বাঁধনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশও ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সংসদকে জানান তিনি।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে কনস্যুলার সহায়তা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তাকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
বাঁধন ইতালির পুলিশের কাছে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন বলেও সংসদকে জানান তিনি। এরপর বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।
সংসদে হামলার নিন্দা
এর আগে সংসদের বৈঠকের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী। তিনি বলেন, ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হামলার শিকার হয়েছেন। হামলার ভিডিও দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ জানতে চান এই সংসদ সদস্য।
জহরত আদিবের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ঘটনাটিকে অত্যন্ত অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি সংসদকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
পরে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনও বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা বাঁধনের ওপর হামলা করেছেন। জুলাই আন্দোলনে তার অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আখতার হোসেন সরকারের কাছে জানতে চান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ
সংসদে বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তার দাবি, বাংলাদেশের কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের ‘দাসত্ব বা গোলামি’ করবে না এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: