অধিকার পত্র ডেস্ক:
দেশের গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন এবং বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সভাকক্ষে ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় এসব দাবি ও সুপারিশ উঠে আসে। ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিআরটিএ যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক (প্রোগ্রামস) ড. মাহিন মালিক।
পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে অধূমপায়ীরা
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন।
অন্যদিকে প্রায় আড়াই কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ বলে সভায় জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে চালক ও চালকের সহকারীদের ধূমপানের কারণে যাত্রীরা সরাসরি ধূমপান না করেও ক্ষতিকর ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসছেন। এতে নারী, শিশু ও অন্যান্য অধূমপায়ীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
তামাকমুক্ত গণপরিবহনে যেসব সুপারিশ
সভায় গণপরিবহনকে তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- বিআরটিএর বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসসহ সব কার্যালয় এবং প্রতিটি গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করা।
- পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নিয়মিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী বার্তা সংযুক্ত করা।
- বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো।
- গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থলে ধূমপানের জন্য আইনে নির্ধারিত জরিমানার বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
৬১ হাজারের বেশি চালককে প্রশিক্ষণ
সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, তামাক ও ধূমপানমুক্ত টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহযোগিতায় ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও চালকসহ পরিবহনসংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু আইন থাকলেই হবে না, গণপরিবহনে ধূমপান নিষেধাজ্ঞার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি। এর মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: