অধিকার পত্র ডেস্ক:
মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় ঘরে ঢুকে আইভী আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
নিহত আইভী আক্তার কালিকাপুর এলাকার আসলাম শরীফের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে শরীয়তপুর শহরের কাতারপ্রবাসী মো. ফেরদৌসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘরে একা ছিলেন আইভী
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ছোটবেলা থেকেই চাচা কালাম শরীফের বাড়িতে থাকতেন আইভী। বিয়ের পর কিছুদিন আগে তার স্বামী ফেরদৌস কাতারে চলে যান। এরপর আইভী স্বামীর বাড়ি থেকে চাচার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইভীর চাচা কালাম শরীফ নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান। এ সময় বাড়িতে আইভী একাই ছিলেন।
চাচা মসজিদে যাওয়ার পর কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইভীকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। পরে ঘরে থাকা একটি আইফোনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
মেঝেতে পড়ে ছিল রক্তাক্ত মরদেহ
কালাম শরীফ রাত ৮টার দিকে বাড়িতে ফিরে আইভীকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
কালাম শরীফ জানান, মসজিদে যাওয়ার আগে তিনি বাড়ির মূল গেটে বাইরে থেকে তালা দিয়েছিলেন। ফিরে এসে ঘরের গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ভেতরে গিয়ে মেঝেতে ভাতিজির রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
হত্যার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে আইভীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, আইভীর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত করছে।
তিনি বলেন, চুরি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় ছাড়াও অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: