চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে ডিএমপির এএসআই গ্রেপ্তার
অভিযোগে চুরি ও হুমকির মামলাও, কারাগারে এএসআই ও প্রবাসীর স্ত্রী
অধিকার সংযুক্ত নিউজ
চট্টগ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আকবরশাহ থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার এএসআইয়ের নাম মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না। তিনি ডিএমপিতে কর্মরত। আর ওই নারী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা এবং সৌদি আরবপ্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী কাজী পারভীন আক্তার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জহির শাহ ২০১৮ সাল থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এএসআই নুরুন্নবী মুন্না এর আগে আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সুবাদে ২০২১ সাল থেকে জহিরের বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নগরের আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনির আই-ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে নুরুন্নবী মুন্না যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের ওই ফ্ল্যাটে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এএসআই ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ওই ফ্ল্যাট থেকে প্রবাসী জহির শাহের বিদেশ থেকে পাঠানো ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। এসবের আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসার পর প্রবাসী জহির শাহের ভাই বাদী হয়ে আকবরশাহ থানায় ব্যভিচার, মারধর, চুরি ও হুমকির অভিযোগে মামলা করেন।
বৃহস্পতিবার ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে থানায় নিয়ে আসে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে মামলায় করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: