অধিকারপত্র ডটকম,বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান, ‘প্রবাসী কার্ডে’ বিশেষ সুবিধার কথা জানালেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ‘এখন থেকে শুধু ব্রেইন ড্রেইন নয়, আমরা চাই রিভার্স ড্রেইন।’ অর্থাৎ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে চায় সরকার।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে বাসসেও একই বক্তব্যের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সরকারের নতুন যাত্রায় বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যেই মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারী, প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সফল উদ্যোক্তা ও নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়াভিত্তিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজ ও তরুণ উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করলে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
‘রিভার্স ড্রেইন’ চান উপদেষ্টা
উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শ্রমিকদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরাও রয়েছেন।
প্রবাসীদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীদের বাংলাদেশে ফিরে এসে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের শ্রম ও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তাঁদের শ্রম, দক্ষতা ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সরকার জুলাই ২০২৬-এ জানিয়েছিল, আগস্টের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ড প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর কথা বলা হয়েছিল।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রবাসী কার্ডধারীদের বিমানবন্দরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চেক-ইন ও বোর্ডিং এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি কমিয়ে সহজ, নিরাপদ ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও আবাসন
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ তাদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য পৃথক আবাসন ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেট থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। তরুণদের জন্য দেশে বিশ্বমানের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রবাসীদের বিনিয়োগ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ভিশন রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, মেধা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির লক্ষ্য এবং প্রবাসী কার্ড চালুর বিষয়টি উল্লেখ ছিল।
প্রবাসীদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন বক্তারা
মতবিনিময় সভায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত একাডেমিশিয়ান, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, নারী উদ্যোক্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
তাঁরা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ, পাসপোর্ট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব আলম শাহ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
