odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 1st October 2026, ১st October ২০২৬
দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার; দলীয় পরিচয় না দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পুলিশের

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও: হামলা-দখলে বিব্রত সরকার

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৬:৩০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৬:৩০

অধিকারপত্র ডটকম নগর ডেক্স: নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র (রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার) গুঁড়িয়ে দেওয়া, ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও-কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমি ও বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বিব্রত সরকার। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নাম অভিযোগের সঙ্গে আসায় বিএনপির মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভূমি ও বাড়ি দখল, খাসজমি দখল, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনার সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত কি না এবং কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে দলটি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙচুরের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানোর তথ্যও সামনে এসেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীদের জড়ো করা, দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ভাঙচুরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর সংগ্রহের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দায়িত্বে অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হামলার আগে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দিকে যান।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যাদের নাম এসেছে, তাদের প্রত্যেকের বক্তব্য বা আইনি অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা

ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’তে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এবং আদাবরের শেখেরটেকে জমি ও বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাতেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা: আইজিপি

সরকারের নির্দেশনার পর পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী।

নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় দেশের ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, শিরীন পারভিন হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও শহিদুল আলম রয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রবণতা নির্দেশ করছে। তারা দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও দখলবাজির অভিযোগ শাসক দল ও সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও, অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতীয় প্রক্রিয়ার ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।